Advertisement
E-Paper

চা ফেলে দৌড়, পাকড়াও ১০০

খবর পেয়ে আচমকা সেখানে হানা দিল পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় চার দোকানিকে। পুলিশ দেখে চা ফেলেই দৌঁড় দেন আড্ডায় মশগুল লোকেরা।

বাপি মজুমদার

শেষ আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২০ ০৭:৩৮
শাস্তি: দোকান খুলে কেনাবেচা করায় লাঠিপেটা পুলিশের। মালদহের ইংরেজবাজারে। ছবি: অভিজিৎ সাহা

শাস্তি: দোকান খুলে কেনাবেচা করায় লাঠিপেটা পুলিশের। মালদহের ইংরেজবাজারে। ছবি: অভিজিৎ সাহা

সাতসকালে বাজারে চায়ের দোকান খুলে বসেছিলেন দোকানি। কয়েক জন বারণ করেছিলেন। অভিযোগ, তাতে কান দেননি ওই ব্যবসায়ী। ওই দোকান ঘিরে বসে আড্ডা। তা দেখে আশপাশে আরও কয়েকটি চায়ের দোকান খোলে।
খবর পেয়ে আচমকা সেখানে হানা দিল পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় চার দোকানিকে। পুলিশ দেখে চা ফেলেই দৌঁড় দেন আড্ডায় মশগুল লোকেরা। সাপ্তাহিক লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে শনিবার ঘটনাটি ঘটে হরিশ্চন্দ্রপুরের বড়োল বাজারে। পুলিশ জানায়, লকডাউন ভাঙার অভিযোগে মহকুমার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ দিন গ্রেফতার করা হয়েছে ১০০ জনকে।
এত জনের গ্রেফতার হওয়া ঘিরেই ফের সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্যের পাশাপাশি মালদহেও করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। তা রুখতে সপ্তাহে দু’দিন করে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলাবাসীর একাংশের বক্তব্য, এখনও যে অনেকে সচেতন হননি, তা এ দিনের গ্রেফতারির সংখ্যাতেই স্পষ্ট। এ বার লকডাউনে যে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না, তা এ দিনই স্পষ্ট করেছে পুলিশ।
চাঁচলের এসডিপিও সজলকান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘‘মানুষ সচেতন হলে পুলিশের কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। জরুরি প্রয়োজনে যাঁরা বার হচ্ছেন তাঁদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অকারণে লকডাউন ভাঙার প্রবণতা বন্ধ হয়নি। তবে এ বার কাউকে রেয়াত করা হবে না। লকডাউন ভাঙলে গ্রেফতারের পথেই হাঁটবে পুলিশ।’’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোর থেকেই কার্য়ত মহকুমা জুড়ে মাঠে নামে পুলিশ। শুধু শহর নয়, গ্রামীণ এলাকাতেও টহল দিতে পৌঁছে যায় পুলিশ বাহিনী। তার মধ্যেও চাঁচল শহর, হরিশ্চন্দ্রপুর, রতুয়া, সামসি, পুখুরিয়ায় লকডাউন ভেঙে কয়েকটি চা, মুদিখানা, পোশাকের দোকান খোলা হয় বলে অভিযোগ। মোটরবাইক নিয়েও অকারণে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন অনেকে। সদুত্তর না মেলায় তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। পালানোর চেষ্টা করায় তাড়া করে অনেককে লাঠিপেটাও করতে দেখা যায় পুলিশকে। হরিশ্চন্দ্রপুরে ৩২ জন, চাঁচলে ২৫, রতুয়ায় ১৫ ও পুখুরিয়ায় ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের কঠোর ভূমিকায় অবশ্য খুশি সচেতন নাগরিকরা। শহরবাসী পার্থ চক্রবর্তী, আব্দুর রশিদ বলেন, যা পরিস্থিতি তাতে লকডাউনের দিন বাড়ানোর পাশাপাশি এ ভাবেই কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। না হলে ফল সবাইকে ভুগতে হবে।

coronavirus lockdown
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy