রবিবার ভর সন্ধে। ভক্তিনগর চেকপোস্ট এলাকা তখন জমজমাট। ছুটির দিনের ভিড় লাগোয়া দু’টি শপিংমলেও। হঠাৎই সেই ভিড়ের ফাঁক দিয়ে এঁকেবেঁকে ছুটতে দেখা যায় দু’জনকে। পিছনে একইভাবে সর্পিল গতিতে ছুটছে মোটরবাইক। ঠিক কী হয়েছে বোঝার আগেই বৈকুণ্ঠপুর বনবিভাগের বেলাকোবার রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্তের নেতৃত্বে অভিযানে ধরা পড়ে গেল তিন জন। বনকর্তাদের দাবি, প্রায় ৬ ফুট দীর্ঘ একটি পুরুষ চিতাবাঘের একেবারে টাটকা চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে তাদের কাছ থেকে। চামড়ায় দু’টি গুলির দাগও স্পষ্ট।
বনবিভাগ জানায়, ধৃতদের মধ্যে দু’জনের নাম কুমার রাই। একজনের বয়স ৭৫। অন্যজনের ৩৫। বৃদ্ধ কুমার রাই জয়গাঁর বাসিন্দা। অন্যজনের বাড়ি নেপালের ঝাঁপায়। তাদের সঙ্গেই রুদ্রপ্রসাদ গেলাল নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে বন দফতর। চল্লিশোর্ধ্ব রুদ্রর বাড়িও নেপালের ঝাঁপা জেলায়। প্রাথমিক তদন্তের পরে বন দফতরের অনুমান, ওই চামড়া হাতবদলের পরে নেপাল হয়ে চিনে যেত। পাচার চক্রের মূল দুই পাণ্ডাকে চিহ্নিত করেছে বন বিভাগ। এই দুই সন্দেহভাজন নেপালের পবন খটকি ও ভুটানের সোনম ভুটিয়াকে খুঁজছেন ভারতের ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল বোর্ডের গোয়েন্দারা। এ দিন যারা ধরা পরেছে তারা শিলিগুড়ি, নেপাল, ভুটান ও ডুয়ার্সে থাকা আত্মীয়দের বাড়িতে মাঝেমধ্যেই ডেরা বাঁধত বলে সন্দেহ বনদফতরের আধিকারিকদের।
তাঁরা জানান, চিতাবাঘের চামড়াটি বড়জোর মাসখানেক আগে দেহ থেকে ছাড়ানো হয়েছে বলেই মনে করছেন তাঁরা। ৫ লক্ষ টাকায় ওই চামড়া বিক্রির জন্য শিলিগুড়িতে জড়ো হয়েছিল কয়েক জন। ৩ জন ধরা পড়লেও আরও ৫ জন উধাও হয়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। সঞ্জয়বাবু জানান, ওই চক্রে যুক্ত সবাইকার খোঁজ চলছে।
বন দফতর সূত্রের খবর, রবিবার দুপুরে বেলাকোবার রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয়বাবু খবর পান, শিলিগুড়িতে একটি চিতাবাঘের চামড়ার লেনদেন হতে চলেছে। খোঁজখবর করে একটি গাড়ির নম্বরও পান তিনি। সেই মতো নজরদারি চালিয়ে শালুগাড়া এলাকায় গাড়িটিকে চিহ্নিত করেন। কিন্তু, টের পেয়েই গাড়ি থামিয়ে রাস্তায় নেমে ব্যাগ কাঁধে এঁকেবেঁকে ছুটতে শুরু করে ভিতরে থাকা তিনজন। তখনই এক সঙ্গীকে নিয়ে মোটরবাইকে সন্দেহভাজনদের তাড়া করেন রেঞ্জ অফিসার। ছুটতে শুরু করেন অন্য বনকর্মীরাও। ছুটির দিনের সন্ধেবেলা রীতিমতো ভিড় ছিল ওই এলাকায়। যানজটও ছিল। তার মধ্যেই পিছু ধাওয়া করে ওই তিনজনকে ধরে ফেলেন বনকর্মীরা।