কন্টেনমেন্ট জ়োন ঘোষণা করা হল দার্জিলিং শহরের অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে গাঁধী রোডকে। তাতেই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়লেন শৈলশহরের হোটেল, রেস্তরাঁ মালিকেরা। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে আগামী সাতদিন এলাকার সমস্ত বাজার, দোকান-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অফিস, হোটেল সব বন্ধ থাকবে বলে নির্দেশিকা জারি করেছেন দার্জিলিঙের জেলাশাসক। হোটেল মালিকদের বক্তব্য, গাঁধী রোডে দার্জিলিং শহরের ছোট থেকে বড় অন্তত ৪৫টি নামকরা হোটেল রয়েছে। এই রাস্তার উপরের অংশ টিভি টাওয়ার রোডেও বহু হোটেল রয়েছে। পুজো, মহালয়ার আগে নতুন করে ব্যবসা গুছিয়ে তোলার আগেই আবার সব কিছু সাতদিন পিছিয়ে গেল।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, গাঁধী রোডের একটি অ্যাপার্টমেন্টে করোনা সংক্রমণ মারাত্মক আকার নেয়। একই পরিবারের দু’জনের মৃত্যুর পর তাঁদের সংস্পর্শে আসা বাকি ৮ জনের মধ্যে ৬ জনের পজ়িটিভ এসেছে। আর একজনের পরিস্থতি ততটা ভাল নয়। এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতেই জেলা প্রশাসনের কর্তারা জরুরি বৈঠকের পর গাঁধী রোডকে কন্টেনমেন্ট জ়োন ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন। আর তাতে সার্কিট হাউস, দু’টি স্কুল, একাধিক হোটেল বন্ধ হল সাতদিনের জন্য।
জেলাশাসক জানিয়েছেন, একমাত্র আপতকালীন এবং নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান ছাড়া সব বন্ধ থাকবে। সকলকে নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে।
দার্জিলিঙের হোটেল মালিকদের অনেকেই জানিয়েছেন, অনেক টানাপোড়েনের পর জিটিএ-র মধ্যস্থতায় কয়েকদিন আগেই দার্জিলিং এবং কালিম্পঙে হোটেল, হোমস্টে চালু করা যেতে পারে বলে প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি দেয়। এর জেরে গত কয়েকদিন ধরে প্রতিটি হোটেলেই কমবেশি গ্রাহকদের ফোন আসছিল। শহরে কয়েকটি হোটেলে ১-২টি বুকিং-ও হয়েছে বলে দাবি। এই পরিস্থিতিতে গাঁধীরোডের মতো এলাকায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চিন্তিত হোটেল মালিকেরা। দার্জিলিং হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিনোদ খন্না বলেন, ‘‘সরকারি নির্দেশিকা মেনে তো চলতেই হবে। করোনা নিয়ে সচেতনতা আরও বাড়ানো ছাড়াও হোটেল, রেস্তরোঁ, রিসর্ট বা হোমস্টে-তে কী কী প্রক্রিয়া মেনে চালাতে হবে তা সরকার বা প্রশাসন ঘোষণা করুক।’’
দার্জিলিং শহরের ম্যাল রোড, গাঁধীরোড, এইচডি লামা রোড, টিভি টাওয়ার রোডকে ঘিরে বিভিন্ন বাজেটের শতাধিক হোটেল রয়েছে। পাহাড়ের পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িতেরা জানান, কন্টেনমেন্ট জ়োন উঠে যাওয়ার পরেও ওই হোটেলগুলিতে প্রভাব পড়তে পারে। পর্যটন শিল্পকে বাঁচাতে সর্বত্র টানা নজরদারি, গাইডলাইন, স্যানিটাইজ়েশন প্রক্রিয়ার মত কিছু পদক্ষেপ দ্রুত দরকার।