আলিপুরদুয়ার জেলার একটি গ্রামে এক বারো বছরের কিশোরকে চুরির অপবাদ দিয়ে হেনস্থার অভিযোগ উঠল প্রতিবেশী পরিবারের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, ওই কিশোরের এক প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে নগদ চার হাজার টাকা এবং একটি ব্যাংকের বই হারিয়ে যায়। এর পরেই প্রতিবেশীরা সপ্তম শ্রেণির ওই কিশোরের বাড়িতে এসে টাকা ফেরত চান এবং চুরির অপবাদ দেন। অভিযোগ, ওই কিশোর গোটা বিষয়টি অস্বীকার করার পরে প্রতিবেশী পরিবারটির এক মহিলা ‘বাটি চালান’ (হারানো সামগ্রী খোঁজার জন্য প্রচলিত অবৈজ্ঞানিক গ্রাম্য পদ্ধতি) দেন এবং ওই কিশোরের উপরেই চুরির দোষ চাপান। যদিও ওই ঘটনার তিন দিন পরে অভিযোগকারী প্রতিবেশীর বাড়ি থেকেই ওই টাকা এবং ব্যাংকের পাস বই পাওয়া যায়। আরও অভিযোগ, এর পরেই গোটা বিষয়টি নিয়ে শনিবার ওই গ্রামে সালিশি সভা বসে। সেখানে প্রতিবেশী পরিবারের সদস্যেরা কিশোরের অভিভাবকদের কাছে ক্ষমাও চান।
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের জেলা সহ সভাপতি শান্তনু দত্ত বলেন, “এই ঘটনায় অবিলম্বে আইন অনুযায়ী পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা না-হলে এ ধরনের কুসংস্কারের ঘটনা আরও বাড়তে থাকবে।” পুলিশ সূত্রে অবশ্য জানা গিয়েছে, ঘটনাটি সামনে আসার পরেই শনিবার এর তদন্ত শুরু হয়েছে। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিতকুমার শাহ জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, দিন সাতেক আগে ঘটনাটি ঘটে। জেলার একটি গ্রামের বছর বারোর এক কিশোর প্রতিবেশীর বাড়ির সামনে খেলতে যায়। সেই সময়ে ওই বাড়ির কর্তা ব্যাংক থেকে চার হাজার টাকা তুলে এনে ঘরে রাখেন। খেলা শেষ করে কিশোর বাড়ি যাওয়ার পরে নগদ চার হাজার টাকা এবং ব্যাংকের বই না পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়, ওই টাকা ওই কিশোর চুরি করেছে। এর পরেই ওই নাবালকের বাড়িতে গিয়ে তার কাছে টাকা চাওয়া হয় বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, কিশোর সেই টাকা নেয়নি বলে একাধিক বার দাবি করলেও প্রতিবেশী বাড়ির এক মহিলা কবিরাজ সেজে ‘বাটি চালান’ দেন ওই কিশোরই টাকা চুরি করেছে বলে দাবি করেন। যদিও বুধবার টাকা এবং ব্যাংকের বই অভিযোগকারীরা নিজেদের বাড়িতেই খুঁজে পান।
কিশোরের বাবা বলেন, ‘‘আমার ছেলেকে এ ভাবে অপবাদ দেওয়া মেনে নিতে পারিনি। তাই সালিশি সভায় বিষয়টি সকলকে জানিয়েছি।’’ বিধায়ক তথা রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ বলেন, ‘‘এ ধরনের কুসংস্কার বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)