আইন হাতে তুলে নিলেন সাধারণ মানুষ। দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার কোমরে দড়ি বেঁধে টানতে টানতে বাজার ঘোরালেন তাঁরা। ঘটনাস্থল কোচবিহারের মাথাভাঙার কেদারহাট। শেষমেশ বিজেপি নেতাদের কয়েক জনের হস্তক্ষেপে বাঁধনমুক্ত হন তৃণমূল নেতা।
কোচবিহার-১ ব্লকের ঘঘুমারি এলাকার তৃণমূল নেতা ফজরুল হকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এলাকাবাসীর। শনিবার দুপুরে তাঁকে ধরে দড়ি দিয়ে বাঁধেন কয়েক জন ব্যক্তি। এর পর ঘুঘুমারি বাজারে ঘোরানো হয় তৃণমূল নেতাকে। ছোড়া হয় কাঁচা ডিম। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিধানসভা ভোট-পূর্ববর্তী সময়ে ওই তৃণমূল নেতা সাধারণ ভোটারদেরও হুমকি দিতেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থনকারীদের ভয় দেখাতেন। ভোটের আগে বিধানসভার বর্তমান স্পিকার তথা কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসুর কনভয়ে একাধিক বার হামলায় নাম জড়ায় তাঁর।
বিজেপির অবশ্য দাবি, মানুষের এই ক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত। তার পরেও কেউ যাতে আইন হাতে তুলে নেন, সে দিকে নজর দিয়েছে তারা। তাই তৃণমূল নেতার কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর খবর পেয়ে তাদের নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফজরুলকে উদ্ধার করে তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেন।
আরও পড়ুন:
কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভার তিন নম্বর মণ্ডলের সভাপতি আঁখিরঞ্জন পালের মন্তব্য, ‘‘নির্বাচনের সময় বর্তমান স্পিকার তথা কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়কের উপর এবং তাঁর কনভয়ের উপর যে হামলা, আক্রমণ হয়েছিল, সেখানে তৃণমূলের ওই ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। তা ছাড়া তিনি এলাকায় সাধারণ মানুষদের ভীতি প্রদর্শন করেছেন। সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়েছেন।’’ বিজেপি নেতার আরও দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের ফলঘোষণার পর থেকে বেপাত্তা ছিলেন ফজরুল। শনিবার তাঁকে এলাকায় দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ।