হাওড়ার দুষ্কৃতী আকাশ সিংহ থেকে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান, ধৃতদের রাস্তায় ঘোরানো এখন দস্তুর। এর বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা গেল না। শনিবারও পশ্চিম বর্ধমানে তৃণমূল নেতার কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় হাঁটাল পুলিশ।
শুক্রবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন আসানসোলের বারাবনির তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অসিত সিংহ। শনিবার তাঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে নিনেরই এলাকায় ঘোরালো বারাবনি থানার পুলিশ। একই সঙ্গে গৌরান্ডি-৯ পানুড়িয়া হাটতলা মোড় থেকে পুলিশবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে তৃণমূল নেতা অসিত সিংহ এবং তৃণমূল ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে ধৃত ‘কয়লা মাফিয়া’ আকবর আলমের কোমরেও দড়ি বেঁধে এলাকা ঘোরানো হয়। অসিতকে দেখে রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থক থেকে সাধারণ মানুষ।
তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা বারাবনি ব্লকের সভাপতি অসিত, তাঁর ভাই বিশ্বজিৎ সিংহ এবং ‘কয়লা মাফিয়া’ আকবর আলমের বিরুদ্ধে ভোট-পরবর্তী হিংসায় ইন্ধন এবং সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ বলছে, বারাবনি এলাকায় বেশ কিছু হিংসার ঘটনায় ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিলেন তিন জন।
আরও পড়ুন:
বিজেপির অভিযোগ, বারাবনিতে পঞ্চায়েত, বিধানসভা থেকে লোকসভা ভোটে ‘চরম সন্ত্রাস’ চালিয়েছেন তৃণমূল নেতারা। পাশাপাশি বিজেপির কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দিতেন না তাঁরা। অনেক বার লাঠি নিয়ে মারামারি, বোমাবাজি থেকে গুলি চালনোর মতো কাণ্ডে অসিতদের নাম জড়িয়েছে।
অভিযোগ, বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন অভিযুক্তেরা। শেষমেশ তাঁদের মোবাইল লোকেশন ‘ট্র্যাক’ করে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার আসানসোল আদালতে হাজির করানো হয়েছিল তিন জনকে। বিচারক তাঁদের তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।