কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে যা যা করার, সবই করবে রাজ্য সরকার। শনিবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনই জানালেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
শনিবার অর্থমন্ত্রীর গলায় ঝরে পড়ে আক্ষেপের সুর। তিনি জানান, ঐতিহ্যের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন উৎকর্ষের বিচারে পিছনের সারিতে চলে গিয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সেনেট হলে শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ উৎসবের মঞ্চেই তিনি জানান, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে পড়ছে। তিনি চান, সেই পুরনো অবস্থা ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা করুন। ক্যাম্পাসের মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষে স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা পৃথক ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু আপাতত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অবস্থা দেখছি, তার সীমানা ছোট হতে হতে এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে যে, এশিয়ার মধ্যে তো দূরের কথা, ভারতের ক্ষেত্রেই অনেক নেমে গিয়েছে।’’ তাঁর সংযোজন, “এ রাজ্যের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হলে শুধু শিল্প বা বাণিজ্য নয়, শিক্ষা-সংস্কৃতির উৎকর্ষও ঘটাতে হবে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাদ দিয়ে উচ্চশিক্ষার কথা কেউ ভাবতেই পারবেন না।’’
এ দিকে, রাজ্য বাজেটে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিশেষ ১২০০ কোটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু তেমন কোনও আর্থিক সাহায্য পায়নি কলকাতা। এ বিষয়ে স্বপন বলেন, “টাকা ছড়ালেই তো সব হয় না। একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন।” যদিও পরে তিনি আশ্বাস দিয়ে জানান, আগামী ৮ মাসের জন্য বাজেট করা হয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে যা যা করণীয়, সবই করবে রাজ্য সরকার।
নিজস্ব চিত্র।
উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, “এখন বিজ্ঞান বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নানা গবেষণার জন্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎকর্ষ স্থানাঙ্ক নির্ধারিত হয়। কলা বিভাগের ক্ষেত্রে সে সুযোগ অপেক্ষাকৃত কম। আমরা চেষ্টা করছি কলা বিভাগে গবেষণার কাজ বৃদ্ধি করতে।” পাশাপাশি তিনি জানান, পঠনপাঠনের মানোন্নয়নের জন্য সরকারের সঙ্গে কথা হয়েছে। ভিন্রাজ্যের পড়ুয়াদের সংখ্যাও গত কয়েক বছরে কমে গিয়েছে বলে মনে করছে বিশ্ববিদ্যালয়। তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে বলেও জানান উপাচার্য। দীক্ষান্ত ভাষণ একত্রিত করে পুস্তিকা প্রকাশ করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন আশুতোষ।