Advertisement
E-Paper

৪০ বছর আগে গ্রামের টিভিতে দেখেছিলেন মারাদোনার খেলা! সেই বুবিস্তাই মেসির আর্জেন্টিনার সামনে কাবো ভার্দের প্রাচীর

১১ বছর ধরে কাবো ভার্দের অধিনায়ক ছিলেন পেদ্রো লেইতাও ব্রিটো। এখন তিনিই কোচ। স্থানীয় ভাষায় বুবিস্তা নামে তাঁকে ডাকেন সকলে। সেই বুবিস্তাই স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সকলকে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ২০:৪১
football

দেশকে বিশ্বকাপের নকআউটে তুলে পতাকা হাতে কাবো ভার্দের কোচ পেদ্রো লেইতাও ব্রিটো। ছবি: রয়টার্স।

কাবো ভার্দের একটি দ্বীপ বোয়া ভিস্তা। সেখানকার প্রত্যন্ত গ্রাম পোভোয়াকাও ভোলহায় বিশ্বকাপের সময় ভাড়া করে আনা হত একটি টেলিভিশন। সেই টেলিভিশনেই ৪০ বছর আগে মারাদোনার কেরামতি দেখেছিল কিশোর পেদ্রো লেইতাও ব্রিটো। সেই কিশোর এখন ৫৬ বছরের কোচ। সেই পেদ্রো ওরফে বুবিস্তার হাতেই স্বপ্ন দেখছে কাবো ভার্দে। আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোয় ওঠার পথে সবচেয়ে বড় বাধার নাম বুবিস্তা।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে মারাদোনার জাদু দেখে পেদ্রোর মনে হয়েছিল, সেও বড় ফুটবলার হবে। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামে কিছুই তো নেই। মোজা দিয়ে প্রথম ফুটবল বানিয়ে দিয়েছিলেন মা। সেই মোজার ফুটবলেই হাতেখড়ি। পরে ১১ বছর কাবো ভার্দের অধিনায়কত্ব করেন পেদ্রো। অধিনায়ক হিসাবে পারেননি, কোচ হিসাবে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তিনি।

পেদ্রো তাঁর নাম হলেও সকলের কাছে তিনি পরিচিত বুবিস্তা নামে। স্থানীয় ভাষায় এই নামেই তাঁকে ডাকেন সকলে। শনিবার সকালে হিউস্টনে সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে তিনি দেখলেন, তাঁর দল বিশ্বকাপের নকআউটে। সাত বারের চেষ্টায় বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনের পর প্রথম বারই গ্রুপ টপকেছে কাবো ভার্দে। তিন ড্রয়ে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

স্পেন, উরুগুয়ের গ্রুপে কেউ আশা করেনি কাবো ভার্দেকে নিয়ে। তাতে কিছুটা সুবিধা হয়েছে তাদের। প্রত্যাশার কোনও চাপ নেই। ফুরফুরে মেজাজে শুধু ফুটবলটাই খেলেছে তারা। প্রথম ম্যাচে আটকে দিয়েছে বিশ্বজয়ী ও ইউরোজয়ী স্পেনকে। দ্বিতীয় ম্যাচে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ড্র। তৃতীয় ম্যাচে ড্র সৌদি আরবের বিরুদ্ধে। গ্রুপের অপর ম্যাচে স্পেনের কাছে উরুগুয়ে হারায় দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে কাবো ভার্দে।

বুবিস্তার মতোই দলের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা গল্প রয়েছে। যেমন লোগান কোস্তা। দলের সেন্টার ব্যাক। ভিয়ারিয়ালে খেলা এই ফুটবলারের এসিএল ছিঁড়ে গিয়েছিল গত বছর। ১০ মাস খেলেননি। সেই কোস্তাকে দলে রেখেছিলেন বুবিস্তা। গ্রুপের তিনটি ম্যাচেই খেলেছেন। তাঁকে পরাস্ত করতে পারেননি কেউ। প্রায় এক বছর ফিজিয়োর টেবলে পড়ে থাকা কোস্তার উপর যখন কেউ ভরসা দেখাননি, দেখিয়েছেন বুবিস্তা।

মিডফিল্ডার জেমিরো মন্টেইরোর বাবা-মা কাবো ভার্দের হলেও তাঁর জন্ম জার্মানিতে। স্পানগেনের রাস্তায় ফুটবল শিখেছেন। ফিলাডেলফিয়া, নেদারল্যান্ডসে খেলেছেন। যোগ্যতা অর্জন পর্বে তাঁর গোলেই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে কাবো ভার্দে।

উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ফ্রি কিক থেকে গোল করা কেভিন পিনাকে ম্যাসাচুসেটসের রাস্তায় খেলতে দেখে আবিষ্কার করেছিলেন কাবো ভার্দের প্রাক্তন অধিনায়ক কার্লোস মোরাইস। রাশিয়ার ক্লাবে খেলা এই ফুটবলারের উপর গোলের জন্য ভরসা করছে কাবো ভার্দে।

তেল আভিভে খেলা ২৪ বছরের হেলেয়ো ভারেলা উরুগুয়ের বিরুদ্ধে বেঞ্চ থেকে নেমে গোল করে খেলা ড্র করেছেন। সেটাই তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক গোস। বুবিস্তা তাঁর মধ্যে কিছু দেখেছেন, যা বাকিরা দেখতে পারেননি।

গোলরক্ষক ভোজিনহার গল্প তো সকলেরই জানা। স্পেনের বিরুদ্ধে সাতটি সেভ করে নায়ক হয়েছিল। বিশ্বকাপের আগে সমাজমাধ্যমে তাঁর অনুরাগী ছিল ৫ হাজার। স্পেন ম্যাচের পর তা বেড়ে হয় ১৩ মিলিয়ন। স্পেনকে আটকে দিয়ে কেঁদেছিলেন। কয়েক দিন আগেই তাঁর দাদু, দিদা মারা গিয়েছেন। মা বিশ্বকাপ দেখতে আসার ভিসা পাননি। পরে অবশ্য ছেলের খেলা গ্যালারিতে বসে দেখেছেন ভোজিনহার মা।

লিঙ্কডিনে বার্তা পাঠিয়ে দল বানিয়েছেন বুবিস্তা। পিকো লোপেস ভেবেছিলেন, কেউ মজা করছেন। তাই প্রথমে গুরুত্ব দেননি। আর একটু হলেই বিশ্বকাপে খেলা হত না তাঁর।

৩৬ বছরের অধিনায়ক রায়ান মেন্ডেস ১৬ বছর ধরে খেলছেন। ৯৬টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। তিনিই নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলকে। ভরসা দিচ্ছেন। কোচের পরিকল্পনা মাঠে নেমে বাস্তবায়িত করছেন।

এ বার সামনে আর্জেন্টিনা। যে মারাদোনাকে দেখে বুবিস্তার ফুটবল খেলা শুরু তাঁর দেশেরই সবচেয়ে বড় তারকার বিরুদ্ধে নামবেন খেলতে। লিয়োনেল মেসিকে আটকাতে হবে। যে মেসিকে আটকাতে বিশ্বের সেরা কোচেরা হিমশিম খেয়েছেন, সেই মেসিকে গোল পর্যন্ত পৌঁছোতে না দেওয়া বুবিস্তার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

অবশ্য ভয় পাচ্ছেন না বুবিস্তা। বিশ্বকাপ শুরুর আগে তিনি বলেছিলেন, “স্বপ্ন দেখার অধিকার সকলের আছে। আমরাও দেখছি। আর কোনও কিছুই অসম্ভব নয়।” সত্যিই তো, কাবো ভার্দে যে এত দূর যাবে তা কে ভেবেছিল। এক বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে আটকেছেন। দু’বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে আটকেছেন। এ বার সামনে তিন বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বুবিস্তা ভয় পাচ্ছেন না। তিনি স্বপ্ন দেখছেন। স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।

সংক্ষেপে
  • ১১ জুন থেকে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এ বারই প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
  • ফুটবল বিশ্বকাপ হচ্ছে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ফিফা।
  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ।
সর্বশেষ
৭ ঘণ্টা আগে
Argentina Football Lionel Messi

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy