E-Paper

কর্মক্ষেত্রে ফিরছেন পরিযায়ীরা

এসআইআর-আবহে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে মালদহ জেলায় ভোটগ্রহণ হয় ২৩ এপ্রিল, যেখানে রেকর্ড (৯৪.৭৯ শতাংশ) ভোট পড়েছে।

জয়ন্ত সেন

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভোট মিটতেই কর্মস্থলের টানে ভিন্ রাজ্যের পথে মালদহের পরিযায়ী শ্রমিকেরা। শনিবার রাত থেকেই শিয়ালদহ ও হাওড়াগামী ট্রেন ধরতে মালদহ টাউন স্টেশনে ভিড় বাড়তে শুরু করে। রবিবার দিনভরও সেই একই চিত্র সামসি ও হরিশ্চন্দ্রপুর স্টেশনেও। সংরক্ষিত টিকিট না পেয়ে অনেকেই ভিড়ে ঠাসা সাধারণ কামরায় যাত্রা শুরু করেছেন। ফলে কামরাগুলিতে যাত্রীদের ভিড় চরমে।

এসআইআর-আবহে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে মালদহ জেলায় ভোটগ্রহণ হয় ২৩ এপ্রিল, যেখানে রেকর্ড (৯৪.৭৯ শতাংশ) ভোট পড়েছে। জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় বহু পরিযায়ী শ্রমিক শত কষ্ট সহ্য করেও বাড়ি ফিরে ভোট দিয়েছেন। দিল্লি, মুম্বই, কেরলম-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে সংরক্ষিত টিকিট না পেয়ে অনেকেই সাধারণ কামরায় চেপে, কেউ বসে আবার কেউ প্লাস্টিক পেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মালদহে পৌঁছেছিলেন। ভোট পর্ব শেষ হতেই তাঁরা কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। শনিবার রাত থেকে মালদহ স্টেশনে তাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো ছিল, আর রবিবার দিনভর একই ছবি দেখা গিয়েছে। ভিন্ রাজ্যে যাওয়ার সরাসরি ট্রেনের পাশাপাশি কলকাতা ও হাওড়াগামী ট্রেনগুলিতেও উপচে পড়া ভিড় দেখা গিয়েছে।

মুম্বইয়ে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন কালিয়াচক ২ ব্লকের বাঙিটোলা ফিল্ডের বাসিন্দা সুরতাল্লি শেখ। তিনি বলেন, ‘‘কাজের চাপের জন্য সব সময় ভোট দিতে আসা হয় না। কিন্তু এ বার পরিস্থিতি আলাদা। ভোট না দিলে নাম কেটে যেতে পারে—এই ভয়েই এত কষ্ট করে ভোটের আগের দিন বাড়ি ফিরেছিলাম। এখন আবার কাজে ফিরছি। টিকিট না পেয়ে সাধারণ কামরায় যেতে হচ্ছে।’’ একই সুর শোনা গেল কালিয়াচকের আর এক শ্রমিক মোবারক শেখের কথায়। তিনি বলেন, ‘‘প্রথমে ভোটার তালিকায় নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। পরে নাম উঠেছে। আবার বাদ পড়ার ভয়ে বাধ্য হয়ে ভোট দিতে এসেছিলাম। এখন আবার কর্মস্থলে ফিরছি।’’ এ বারের নির্বাচনে মালদহে বিপুল ভোটদানের নেপথ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের এই ফিরে আসা বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে দাবি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ভোট মিটতেই আবার জীবিকার তাগিদে তাঁদের দ্রুত ফিরে যাওয়ার দৃশ্য জেলার আর্থ-সামাজিক বাস্তবতাকে তুলে ধরছে বলেও মত তাঁদের।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Malda

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy