Advertisement
E-Paper

সন্তান চুরি, এক লক্ষের ক্ষতিপূরণ

সরকারি হাসপাতাল থেকে সদ্যোজাত শিশু চুরি হওয়ার ১২ বছর পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ১ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ পেলেন মহিলা। শিশু ফেরত চেয়ে শিলিগুড়ির বাসিন্দা ওই মহিলা ২০০৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০১৬ ০১:১৪

সরকারি হাসপাতাল থেকে সদ্যোজাত শিশু চুরি হওয়ার ১২ বছর পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ১ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ পেলেন মহিলা। শিশু ফেরত চেয়ে শিলিগুড়ির বাসিন্দা ওই মহিলা ২০০৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন। গত ৩ মার্চ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক রাজ্য সরকারকে ‘গাফিলতির’ কারণে ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। গত বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ির বাসিন্দা চম্পা সরকার দাসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সে টাকা জমা পড়েছে।

মামলার রায়ে বিচারপতি উল্লেখ করেছেন, সরকারি হাসপাতাল চত্বর থেকে শিশু চুরি হওয়ায়, তার দায় রাজ্য সরকারকেও নিতে হবে। চার সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিপূরণ জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও, নির্ধারিত সময়ের পরেই তা জমা পড়ে। চম্পাদেবীকে মামলা লড়তে সহযোগিতা করেছিল এপিডিআর, শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন-সহ অন্য কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন। হাইকোর্টের নির্দেশ ও রাজ্যের পদক্ষেপ উভয়কেই স্বাগত জানিয়েছে এপিডিআর। সংগঠনের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক অভিরঞ্জন ভাদুড়ি বলেন, ‘‘দেরিতে হলেও অসহায় মহিলা ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। তার লড়াই সফল হল।’’

বারো বছর আগে কী অভিযোগ ওঠে? ২০০৪ সালের ৫ নভেম্বর চম্পাদেবী শিলিগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পরে শিশুকে মায়ের কোলে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরদিন চম্পাদেবী শৌচাগারে যাওয়ার আগে সদ্যোজাত শিশুকে দেখে রাখার অনুরোধ করেন ওই ওয়ার্ডে ভর্তি আরেক রোগিণীকে। অভিযোগ, শৌচাগার থেকে ফিরে চম্পাদেবী দেখেন, তাঁর শিশু এবং রোগিণী কেউই নেই। বহু খোঁজাখুঁজির পরে চম্পাদেবী বুঝতে পারেন, তাঁর শিশু চুরি হয়েছে। শিলিগুড়ি থানায় অভিযোগও দায়ের করেন তিনি। অভিযোগ শুনে আলোড়ন পড়ে যায় শিলিগুড়িতে। বাম আমলে সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তার হাল নিয়ে অভিযোগ তুলে আসরে নামেন বিরোধীরা। বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালে ঢোকা-বের হওয়ার একটি গেট বন্ধও করে দেওয়া হয়। অভিযোগ দায়ের করার দেড় সপ্তাহ পরে পুলিশ দাবি করে, চুরি যাওয়া শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও, চম্পাদেবী জানিয়ে দেন, উদ্ধার করা শিশুর বয়স বেশি। শিশুটিকে ফিরিয়ে দেন চম্পাদেবী। তারপরেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ না করায় প্রথমে শিলিগুড়ি আদালতে এবং পরে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন চম্পাদেবী। মামলায় আর্জি জানানো হয়, হারানো শিশুকে ফেরত দেওয়া হোক।

মামলায় রাজ্য সরকারের কৌসুলি দাবি করেন, চম্পাদেবী অন্য একজনকে শিশুকে দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে শৌচাগারে গিয়েছিলেন। তাই এতে হাসপাতাল তথা সরকারের কোনও দায়বদ্ধতা নেই। শিশুটি সরকারি হেফাজতে ছিল না, ছিল তার মায়ের দায়িত্বে। রাজ্য সরকারের দাবি খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। মামলার রায়ে বিচারপতি জানান, পুলিশও মামলার ফাইনাল রিপোর্ট জমা দিয়েছে। শিশু উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্বামীহারা চম্পাদেবী এক কন্যাসন্তান রয়েছে। সংসার চালাতে পরিচারিকার কাজ করেন। বৃদ্ধা মা-কেও দেখভাল করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে চম্পাদেবীকে ১ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy