অর্থ নিয়েই এখন ‘অনর্থ’ চলছে জেলা বিজেপিতে, দাবি দলের কর্মীদেরই একাংশের। জলপাইগুড়ি জেলার বিজেপির এক সহ সভাপতির বিরুদ্ধে দলেরই এক কর্মী টাকা নিযে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার টোপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। দলের অনুষ্ঠানের হোটেল ভাড়া মেটানোর বিনিময়ে এক জেলা নেতা কমিশন দাবি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন এক হোটেল মালিক। গত বিধানসভা ভোটে দলের দেওয়া টাকা খরচের হিসেব বহু কেন্দ্র থেকে আসেনি বলে দাবি। সেই সঙ্গে রয়েছে ভোট-পরবর্তী হিংসার ‘শিকার’ হওয়া কর্মীদের ক্ষতিপূরণের টাকা দলের নেতাদেরই কেটে নেওয়ার অভিযোগ। সব মিলিয়ে প্রতিদিনই টাকা নিয়ে বচসা, ক্ষোভ এবং অভিযোগ লেগেই রয়েছে জেলা বিজেপিতে। এই পরিস্থিতিতে আজ, রবিবার জেলা বিজেপির পদাধিকারীরা জরুরি বৈঠকে বসছেন। সেখানে এইসব অভিযোগ প্রসঙ্গে আলোচনা হতে পারে বলে খবর।
বিজেপির চার কর্মীর অভিযোগ, দলের এক জেলা সহ সভাপতি চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রায় পঁচিশ হাজার টাকা তোলেন। কিন্তু কর্মীদের কেউই চাকরি পাননি। বিষয়টি জেলা সভাপতিকে জানান কর্মীরা। তার পরেও জেলা সভাপতি কোনও পদক্ষেপ করেননি। তার জেরেই অভিযোগ পৌঁছয় রাজ্য কমিটিতে। সূত্রের খবর, বিজেপির রাজ্য সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের কানেও অভিযোগ পৌঁছয়। দলের রাজ্য নেতৃত্ব জেলাকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে বলে। এর পরে ওই সহ সভাপতি হাজার দশেক টাকা গত মাসে চাকরিপ্রার্থীদের ফেরান বলে খবর। বাকিটা এ মাসে মেটানোর কথা। কর্মীদের একাংশ জানিয়েছেন, যদি পুরো টাকা ফেরত না পান তা হলে তাঁরা আইনের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হবেন। এক চাকরিপ্রার্থীর কথায়, “দলকে সব জানিয়েছি। সংবাদমাদ্যমকে কিছু জানাব না।”
বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সহ সভাপতি বলেন, “আমি এর কিছুই জানি না। হয়তো রাজনৈতিক চক্রান্ত করতে কেউ অভিযোগ তুলেছে।”
বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়েছে আর একটি অভিযোগ। দলের নানা বৈঠকে এবং নেতারা বাইরে থেকে এলে তাঁদের থাকার জন্য লাটাগুড়ির কয়েকটি হোটেল বা রিসর্ট নিয়মিত বিজেপি ভাড়া নেয়। তারই একটি হোটেল মালিক অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির এক জেলা নেতার বিরুদ্ধে। দলের তহবিল দেখাশোনা করা এক নেতা ওই হোটেল মালিকের থেকে কমিশন দাবি করেছেন বলে অভিযোগ। ওই হোটেল মালিক নিজেও বিজেপি নেতাদের ঘনিষ্ঠ। অভিযোগের কথা তিনি রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছেন বলে দাবি।
এ দিকে গত বিধানসভা ভোটে দলের দেওয়া টাকার খরচের হিসেব এখনও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। দু’টি কেন্দ্র ছাড়া জলপাইগুড়ি জেলার পাঁচ বিধানসভার কোনও হিসেব মেলেনি বলে দাবি। তা নিয়ে রবিবার জরুরি বৈঠক রয়েছে বলে দাবি।
বিজেপির জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “যত্তসব অবান্তর ভিত্তিহীন কথা। আমি এর কিচ্ছু জানি না। সব মিথ্যে।”