E-Paper

বাজারের দর দেখে মিডডে মিলে বরাদ্দ বাড়ানো হোক 

প্রতি কেজি আলু ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। সেখানে মিড ডে মিলে পড়ুয়াদের মাথাপিছু বরাদ্দ এত কম? ভাবা যায়? ভাবতে হবে। এ বারে ভাবার সময় এসেছে। এক একটি ডিম বাজারে সাত টাকার নীচে মেলে না।

অনিরুদ্ধ সিংহ

শেষ আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৮:৫১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

শীত পড়ে গিয়েছে। অথচ, আনাজের দাম এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ডাল, সয়াবিন, রান্নার মশলাপাতির দামও বেড়ে চলেছে। অথচ, পড়ুয়াদের মাথাপিছু মিডডে মিলের আর্থিক বরাদ্দ প্রাথমিক স্তরে ৮০ পয়সারও কম বাড়ানো হল। হাই স্কুল স্তরে পড়ুয়াদের মাথাপিছু বরাদ্দ বেড়েছে এক টাকার সামান্য বেশি। সত্যিই, এই বরাদ্দ বাড়ানোর পরিমাণ দেখে চারদিকে হাস্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্কুলে স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা আরও বেশি করে চিন্তায় পড়েছেন।

প্রতি কেজি আলু ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। সেখানে মিড ডে মিলে পড়ুয়াদের মাথাপিছু বরাদ্দ এত কম? ভাবা যায়? ভাবতে হবে। এ বারে ভাবার সময় এসেছে। এক একটি ডিম বাজারে সাত টাকার নীচে মেলে না। আমাদের মতো বহু স্কুল প্রতিদিন মিড ডে মিলে পড়ুয়াদের পাতে ডিম দিতে পারছে না। মাসে দু-তিন বারের বেশি মিড ডে মিলে পড়ুয়াদের গোটা ডিম খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, ডিমের ভুজিয়া দিয়েই পড়ুয়াদের মিডডে মিল খাওয়াতে হচ্ছে।

অনেক স্কুলে মিডডে মিলে কোনও মতে চাল-ডাল সেদ্ধ করে পড়ুয়াদের খাওয়ানো হচ্ছে। মোদ্দা কথা হল, এই বরাদ্দে পড়ুয়াদের মিড ডে মিলে খাবারের মান কোনও ভাবেই বাড়ানো সম্ভব নয়। এমনকি, মিড ডে মিলের বকেয়া খরচও বাড়তি বরাদ্দ টাকায় মেটানো সম্ভব হবে না। তবে, প্রশাসন বাজারে আনাজ, ডিম, ভোজ্য তেল, চাল, ডাল-সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে, মিড ডে মিলের খরচের রাশ অনেকটাই টানা সম্ভব হবে। বর্তমানে বাজারে আনাজ-সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম যে পরিমাণে বেড়েছে, তাতে পড়ুয়াদের মাথাপিছু প্রাথমিক স্তরে মিড ডে মিল চালাতে কমপক্ষে ১০ টাকা ও হাই স্কুল স্তরে ২০ টাকা বাড়ানো জরুরি।

রাজ্য ও দেশের সরকারি কর্তাদের ঠান্ডা ঘরে বসে মিড ডে মিলের বরাদ্দ বাড়ানোর সমীক্ষা করলে চলবে না। তাঁদের বাজারে এসে আনাজ-সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর দাম খতিয়ে দেখে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে, প্রায় প্রতিটি স্কুলে শিক্ষকদের একাংশ নিজেদের বেতনের টাকা খরচ করে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। দোকানগুলিতে ডিম, সর্ষের তেল, মশলাপাতি বাবদ স্কুলগুলির দেনার বোঝা বেড়েই চলেছে।

প্রধান শিক্ষক, হাতিয়া হাই স্কুল, রায়গঞ্জ

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Potato Price

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy