Advertisement
১৫ জুলাই ২০২৪

সুস্থ থাকতে হেঁটেই হাসপাতালে ডাক্তার-নার্সরা

নিজেদের সুস্থ রাখতে চিকিৎসকদের কাছে ছুটে যান সকলে৷ চিকিৎসকরা বাতলে দেন ওষুধ৷ এ বার সেই চিকিৎসকদের সুস্থ রাখতে ‘দাওয়াই’ দিচ্ছেন আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

পার্থ চক্রবর্তী
আলিপুরদুয়ার শেষ আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৮ ০৫:৩৮
Share: Save:

নিজেদের সুস্থ রাখতে চিকিৎসকদের কাছে ছুটে যান সকলে৷ চিকিৎসকরা বাতলে দেন ওষুধ৷ এ বার সেই চিকিৎসকদের সুস্থ রাখতে ‘দাওয়াই’ দিচ্ছেন আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷

এই ‘দাওয়াই’ হল, সপ্তাহে অন্তত একদিন গাড়ি ছেড়ে পায়ে হেঁটে হাসপাতালে আসা। শরীর সুস্থ রাখতে হাসপাতালের সব চিকিৎসক ও নার্সদের এমন পরামর্শই দিচ্ছেন হাসপাতালের কর্তারা৷ চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে ডায়াবেটিস-সহ বিভিন্ন ধরনের রোগ কমানোর লক্ষ্যেই তাঁদের এই পদক্ষেপ বলে দাবি কর্তৃপক্ষের৷ বাধ্যতামূলক না হলেও কর্তৃপক্ষের এমন পরামর্শ চিকিৎসক ও নার্সদেরও অনেকেই মানতে রাজি৷ হাসপাতালের সুপার চিন্ময় বর্মণ বলেন, “এখন থেকে ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ভবিষ্যতে এটা ভয়াবহ আকার নিতে পারে৷ সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও হাঁটাচলাই ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে৷ সেজন্যই এই পরামর্শ৷”

চিকিৎসকদের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিস রোগটি ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে৷ প্রতিদিন প্রচুর মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন৷ যা থেকে ব্যতিক্রম নন চিকিৎসকরাও৷ আলিপুরদুয়ার জেলা স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরেও ইতিমধ্যে মধুমেহ (ব্লাড সুগার) রোগটি ঢুকে গিয়েছে৷ সূত্রের খবর, খোদ জেলার এক শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্তাই এই রোগে আক্রান্ত৷ এ ছাড়াও আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সও মধুমেহ রোগে আক্রান্ত বলে খবর৷

এই অবস্থায় বুধবার বিশ্ব ডায়াবেটিস দিসব উপলক্ষে বিভিন্ন জেলার মতো আলিপুরদুয়ারেও একটি সচেতনতামূলক পদযাত্রার আয়োজন করা হয়৷ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সদের নিয়েও ওই দিন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়৷ ওই অনুষ্ঠানেই কেউ মধুমেহ রোগে আক্রান্ত কি না তা জানতে স্বাস্থ্যকর্তা থেকে শুরু করে জেলা হাসাপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের রক্ত পরীক্ষাও করা হয়৷ হাসপাতালের এক চিকিৎসকদের কথায়, ‘‘হাসপাতালের চিকিৎসক বা নার্সরা যে চাপ নিয়ে কাজ করেন, তাতে তাঁদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়াটা অসম্ভব নয়৷ কারণ, এটা বাস্তব যে চিকিৎসকরা সবাইকে সুস্থ করার কাজ করলেও, চাপের কারণে অনেক চিকিৎসকই নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হতে পারেন না৷’’

ওই অনুষ্ঠান থেকেই হাসপাতালের তরফে সমস্ত চিকিৎসক ও নার্সদের সপ্তাহে অন্তত একদিন করে গাড়ির বদলে পায়ে হেঁটে ডিউটিতে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়৷ নিজেদের সুস্থ রাখতে কর্তৃপক্ষের এমন পরামর্শে রাজি হন অনেক চিকিৎসক ও নার্সও৷ এক চিকিৎসকের কথায়, “এটা বাস্তব যে মানুষকে সুস্থ করার চাপ এতটাই আমাদের উপর থাকে যে আমরা নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে নিজেরাই ভাবার সময় পাই না৷ এই অবস্থায় একদিন সারাদিন হেঁটে ডিউটিতে যাতায়াত করলে আখেরে আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষেই তা ভাল হবে৷ তাই এখন থেকেই এই নিয়মটা শুরু করব৷”

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

অন্য বিষয়গুলি:

Walking District Hospital Suggestion
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement

Share this article

CLOSE