অভিযুক্ত ছাত্রদের মাথায় ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের একাংশের হাত রয়েছে। তাই দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট আইন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে হুমকি দিয়ে ইস্তফাপত্র লিখে নেওয়ার পর ২৪ ঘন্টা কেটে গেলেও পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার দূরের কথা, তাদের বিরুদ্ধে এখনও কোনও মামলাই দায়ের করে উঠতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দুর্জয় দেবের বক্তব্য, ‘‘শনিবার ঘটনার পরে থানায় ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগের রিসিভ কপি নিতে থানায় ঘুরে এ দিন সকালের পর পেলাম। আতঙ্কে রয়েছি।’’ জেলা পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ দিনও আইন কলেজের দুর্জয়বাবু শনিবারের ঘটনার কথা মনে করতেই শিউরে উঠছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘হামলাকারীরা এ জেলার বাসিন্দা নন। ওরা সাংঘাতিক প্রকৃতির। গেরিলা কায়দায় কলেজে ঢুকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। পাশ না করালে আমাকে দেখে নেবে বলে হুমকি দিয়েছে। পুলিশকে সব জানিয়েও কোনও পদক্ষেপ দেখছি না।’’ তৃণমূল নেতা সুভাষ চাকির অবশ্য দাবি, ‘‘দুর্জয়বাবু আমার ছেলের নাম জড়িয়ে নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছেন।’’ কলেজের নানা অনিয়মের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ যুক্ত বলে অভিযোগ করে সুভাষবাবু বলেন, ‘‘তদন্ত হলেই সব স্পষ্ট হবে।’’
শনিবার দুপুরে আইন কলেজের ফাইনাল সেমিস্টারের পরীক্ষায় অকৃতকার্য ছাত্ররা পাশ করিয়ে দেওয়ার দাবিতে দুর্জয়বাবুকে ঘরে আটক রেখে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। এরপর তারা মারমুখী হয়ে জোর করে তাঁকে দিয়ে ইস্তফাপত্র লিখিয়ে নিয়ে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে কলেজ থেকে বের করে দেয় বলে দুর্জয়বাবু বালুরঘাট থানায় অভিযোগ করেন। দুর্জয়বাবু কলেজ পরিচালন সমিতির প্রাক্তন সদস্য তথা টাউন তৃণমূল সভাপতি সুভাষ চাকির ছেলে ওই কলেজের ছাত্র শাশ্বত চাকির অনুগামী শেখ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে মোট ৭ জন ছাত্রের নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা সকলেই অকৃতকার্য হয়েছে। তার পরেও পুলিশ নিষ্ক্রিয় কেন? তা নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ, শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর ক্ষমতা যাচাই করে এ ক্ষেত্রে পুলিশ ধীরে চলো নীতি অবলম্বন করেছে। পুলিশ তা অস্বীকার করেছে।