Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২০ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

নাবালিকাকে মার, কাঠগড়ায় আমলার স্ত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা
কোচবিহার ১৭ জানুয়ারি ২০১৯ ০৫:০০
আহত: কোচবিহার হাসপাতালে ওই নাবালিকা। বুধবার। ছবি: হিমাংশুরঞ্জন দেব

আহত: কোচবিহার হাসপাতালে ওই নাবালিকা। বুধবার। ছবি: হিমাংশুরঞ্জন দেব

যত কাণ্ড আলিপুরদুয়ারের আমলামহলে।

সম্প্রতি এক ভিডিয়ো কেলেঙ্কারির জেরে বদলি হতে হল জেলাশাসক নিখিল নির্মলকে। এ বারে নাবালিকা পরিচারিকার মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের জয়েন্ট বিডিও অংশুমান দত্তের স্ত্রী শুভ্রা দত্তের বিরুদ্ধে। কোচবিহারের কোতোয়ালি থানার খাগরাবাড়ি এলাকায় বাড়ি শুভ্রাদেবীদের। ঘটনাটি জানতে পেরে তাঁর পড়শিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ওই গৃহবধূর বাড়ি ঘেরাও করে পুলিশে খবর দেয় তাঁরা। পুলিশ গিয়ে নাবালিকাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পাশাপাশি অভিযুক্ত গৃহবধূকে আটক করে। পরে অবশ্য কোনও অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় অভিযুক্ত গৃহবধূকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পড়শি ও নাবালিকার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শীতের সকালে ঘুম ভাঙতে দেরি হয় তার। অভিযোগ, তাই ঘর পরিষ্কারের কাজ সময়মতো কেন হয়নি, সেই কথা বলে সাঁড়াশি দিয়ে ওই নাবালিকার মাথা ফাটিয়ে দেন শুভ্রাদেবী। কোচবিহারের পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্ত বলেন, “বিষয়টি দেখা হচ্ছে।” আলিপুরদুয়ার ২ নম্বর ব্লকের জয়েন্ট বিডিও অংশুমানবাবুর দাবি করেন, অভিযোগ ঠিক নয়। ওই নাবালিকা পা পিছলে সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়েছে। ফলে মাথায় আঘাত লেগেছে। তিনি বলেন, “ওই নাবালিকা তাঁর মামা বাড়িতে থাকেন। খুবই গরিব। তাঁরাই আমাকে অনুরোধ করেন, মেয়েটিকে যেন আমাদের বাড়িতে রাখি। আমিও ভেবেছিলাম, বাড়িতে থাকলে খাওয়াদাওয়া পাবে। পড়াশোনাও শিখবে। পরে তার বিয়ের ব্যবস্থা করব। কিন্তু প্রতিবেশীদের কয়েক জন মিথ্যে অভিযোগ করছেন।”

Advertisement

পুলিশ সূত্রের খবর, আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের জয়েন্ট বিডিও বেশ কিছু দিন ধরে খাগরাবাড়ি এলাকায় ভাড়া থাকছেন। বর্তমানে তিনি একটি প্রশিক্ষণের জন্য শহরের বাইরে। নাবালিকার বাড়ি রাজাভাতখাওয়ায়। পাঁচ ভাইবোন মিলে থাকত মামাবাড়িতে। সেখান থেকেই সাত মাস আগে তাকে ওই বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ দিন অভিযোগ ওঠে, নিজের সন্তানের দেখাশোনা করার জন্য মেয়েটিকে নিয়ে গেলেও পরে তাকে দিয়ে বাড়ির সমস্ত কাজ করাচ্ছিল অংশুমানবাবুর পরিবার। ভোর ৫টা থেকে উঠে ঘর পরিষ্কার, বাসন মাজা, এমনকি রান্নার কাজও করানো হত বলে অভিযোগ। কাজে একটু খামতি হলেই মারধর করা হত বলেও অভিযোগ প্রতবেশীদের একাংশের। তাঁরাই জানান, এ দিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে কাজে দেরি হওয়াতে মারধর শুরু হয়। কান্নার আওয়াজে তাঁরা বাড়িতে গিয়ে দেখেন, মেয়েটির মাথা দিয়ে রক্ত পড়ছে।

ওই নাবালিকা অবশ্য তেমন ভাবে কিছু বলতে চায়নি। তার কথায়, “আমাকে মাঝে মাঝে মারধর করা হত।” কয়েক জন প্রতিবেশী বলেন, “খুব ভয় পেয়ে গিয়েছে মেয়েটি। তাই কথা বলতে চাইছে না।” অভিযুক্ত গৃহবধূ অবশ্য দাবি করেন, ওই ঘটনা মিথ্যে। তিনি বলেন, “প্রতিবেশীদের কয়েক জনের বাড়িতে পরিচারিকা টিকছে না। তাই ষড়যন্ত্র করে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে।”

আরও পড়ুন

Advertisement