জেলায় একজন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী, সাত জন বিধায়ক। প্রত্যেকেরই রয়েছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষী। তার পরেও কোচবিহারে দুর্বল হয়ে পড়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দেখা নিয়ে কোথাও। বিজেপি কর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে হতাশা। দলেরই কর্মীদের একটি অংশ অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বাড়িতেই বসে থাকেন
বিধায়ক-মন্ত্রীরা। কর্মী-সমর্থকদের পাশে দাঁড়িয়েই সংগঠন শক্তিশালী করার মানসিকতা কারও নেই। বিজেপি অবশ্য তা মানতে নারাজ। বিজেপির দাবি, পুলিশ ও প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে সর্বত্র সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছে তৃণমূল। কর্মীদের নামে মিথ্যে মামলা দিয়েও হেনস্থা করা হচ্ছে। সে জন্য অনেকে চুপচাপ বসে রয়েছেন।
বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি সুকুমার রায় বলেন, “প্রার্থী পর্যন্ত দাঁড় করাতে দেওয়া হচ্ছে না। মারধর থেকে হুমকি, ভয় দেখানো সব চলছে। আমরা প্রত্যেকেই কর্মীদের পাশে রয়েছি। এভাবে বেশি দিন চলবে না।”কোচবিহারে লোকসভা ও বিধানসভায় ভাল ফল করেছিল বিজেপি। কিন্তু তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরতেইকোচবিহারে সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল হতে শুরু করে বিজেপি। সাতজন বিধায়ক নিয়েও পিছিয়ে পড়তে শুরু করে। বিজেপি বিধায়কদের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা রয়েছে। এ ছাড়া বিধানসভার পরে সাংসদ নিশীথ প্রামাণিককে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী করা হয়। নিশীথ কোচবিহারে বাহুবলী নেতা হিসেবেই পরিচিত। দলীয় কর্মীদের অনেকেই আশা করেন, নিশীথের নেতৃত্বেই দল ফের ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো। এ বার ছয় পুরসভার দায়িত্ব আলাদা আলাদা করে নেতৃত্বের উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিশীথের উপরে দায়িত্ব ছিল দিনহাটা পুরসভার। সেই পুরসভায় ৮ জন প্রার্থী দিয়েও পরে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয় বিজেপি কর্মীরা। নিশীথ বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। দলীয় কর্মীদের কয়েক জনের কথায়, “কোচবিহারে কোথায় কী পরিস্থিতি সবারই তা জানা। এমন সময় মন্ত্রী-বিধায়করা তো একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এমন আশা আমরা করেছিলাম। কিন্তু কেউই রাস্তায় নামছে না। পার্টি অফিসে বসেই বসেই কাজ করছে। তাহলে দলের নীচুতলার কর্মীরা ভরসা পাবে কেমন করে।”
কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে বলেন, “আমরা সবসময় আমাদের দলের কর্মী-সমর্থকদের পাশে রয়েছি। তৃণমূল সর্বত্র একটা সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে মানুষকে আতঙ্কে রাখছে।” তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ বলেন, “বিরোধীদের তোলা সন্ত্রাসের এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।”