আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য এবং এক জেলা পরিষদ সদস্য আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্যাপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে দেখা করবেন। সাংসদ শিলিগুড়িতে তাঁদের রাজ্যপালের কাছে নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন। যার প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, ‘‘সাংসদ নাটক করছেন।’’
আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান, পঞ্চায়েত সদস্য এবং এক জেলা পরিষদ সদস্য জন বার্লার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। মঙ্গলবার, সাংসদ জন বার্লা অভিযোগ করে বলেন, ‘‘বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যদের থানায় ডেকে নিয়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কুমারগ্রামের বিডিও তাঁদের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন।’’ প্রধান তিমির দাস, উপপ্রধান যুথিকা দাস গ্রাম, পঞ্চায়েত সদস্য ললিত দাস, কেশব চিক বরাইক, ফুলমতি মল্লিক, মহুয়া দাস বড়ুয়া, সোনালি সরকার, সালিম লামা, ববিতা দাস ও এক জেলা পরিষদ সদস্য কল্পনা নাগ তাঁর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে বার্লা জানান।
প্রধান তিমির দাস বুধবার বলেন, ‘‘তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য ভয় দেখানো হচ্ছে। দুই পঞ্চায়েত সদস্যকে তৃণমূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’’ তাঁর অভিযোগ, পাঁচ পঞ্চায়েত সদস্যকে কুমারগ্রাম থানায় ডেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য ভয় দেখানো হয়েছে। কুমারগ্রামে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। তিমির বলেন, ‘‘নিরাপত্তার দাবিতে আমরা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করব। রাজ্যে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই সেটাই রাজ্যপালের কাছে তুলে ধরব।’’
তৃণমূল এবং পুলিশ সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা এবং মনগড়া বলে দাবি করেছে। তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, ‘‘তৃণমূলের এত খারাপ অবস্থা হয়নি যে, ভয় দেখিয়ে পুলিশকে ব্যবহার করে কাউকে দলে নিতে হবে। ওই পঞ্চায়েত সদস্যরাই তৃণমূলে আসার জন্য আমাদের ব্লক নেতাদের সঙ্গে দেখা করছেন। বিজেপি সাংসদ নাটক করছেন এ সব মনগড়া অভিযোগ তুলে।’’ মৃদুলের সংযোজন, ‘‘আমাদের রাজ্যপাল তো রাজ্যপাল নন উনি একজন বিজেপি নেতা। রাজভবনে বসে বিজেপি নেতার কাজটাই করছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে কে দেখা করল সেটার কোনও গুরুত্ব আমাদের কাছে নেই।’’
কুমারগ্রামের বিডিও মিহির কর্মকার জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি। কুমারগ্রামের আইসি বিডি সরকার জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ মিথ্যে।
অন্যদিকে, বুধবার জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় জন বার্লার বিরুদ্ধে বাংলাভাগের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।