উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্য ঘোষণা করার দাবির বিষয়ে ‘বিরূপ’ মন্তব্য করা যাবে না বলে নির্দেশ দিলেন বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব। শিলিগুড়িতে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী ও বাকি নেতারা জেলা পদাধিকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেই উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্য ঘোষণা নিয়ে ‘বিরূপ’ মন্তব্য করতে নিষেধ করা হয়েছে। মূলত দু’টি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, এমন কোনও মন্তব্য করা যাবে না, যাতে উত্তরবঙ্গের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত লাগে। দ্বিতীয়ত, কোনও মন্তব্যে বিজেপি উত্তরবঙ্গ পৃথক করার বিরোধী, এই বার্তাও যেন না যায়।
শিলিগুড়িতে দু’দফায় বৈঠক হয়েছে বলে খবর। বিভিন্ন জেলার পদাধিকারীদের নিয়ে বৈঠক এবং বিধায়কদের নিয়ে অন্য একটি বৈঠক। দুই বৈঠকেই পৃথক উত্তরবঙ্গ রাজ্য প্রসঙ্গ দলের নেতৃত্বই তুলেছিলেন বলে খবর। বিধানসভা ভোটে বিজেপির ভরাডুবির পরে পৃথক উত্তরবঙ্গের দাবি তুলেছিলেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ জন বার্লা। তার পরপরই দলের একাধিক বিধায়ক, সাংসদেরা এই দাবির সমর্থনে সুর তোলেন। পাল্টা বিজেপিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী তোপ দেগে আক্রমণ চড়ান তৃণমূল নেতৃত্ব। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য জুড়েই অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল বিজেপি নেতৃত্বকে। বিজেপি ভার্চুয়াল বৈঠক ডেকে তড়িঘড়ি দলের জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের এ বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বলে। বলা হয়, এ নিয়ে যা বলার রাজ্য বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই বলবেন। সম্প্রতি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও উত্তরবঙ্গে এসে জন বার্লার এই দাবিকে উত্তরবঙ্গের মানুষের দাবি বলে মন্তব্য করেন ‘দল ভেবে দেখবে’ বলে। সেই দিনই কিছু পরে তিনি দাবি করেন, দল ভেবে দেখবে, এ কথা তিনি বলেননি।
বুধবার বৈঠক থেকে উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য ঘোষণার দাবি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য না করার নির্দেশ দেওয়ায় দলের একাংশের দাবি, পরোক্ষে ওই দাবিকে সমর্থন জানাতেই বলা হয়েছে। বিজেপি সূত্রের খবর, এই দাবিকে জিইয়ে রাখতে চাইছে গেরুয়া শিবির। এর কারণ হিসেবে দলের অন্দরের ব্যাখা, এই মুহূর্তে বিজেপির কোনও আন্দোলনের অস্ত্র নেই। বিধানসভা ভোটের পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে এতদিন আন্দোলন হয়েছে। এখন সিবিআই আসরে নামায় সে অস্ত্রে বিশেষ কাজ হচ্ছে না বলে দাবি। সে কারণেই ফের উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য ঘোষণার দাবিকে সামনে এনে দলের কর্মীদের উজ্জীবিত করে, সংগঠন ধরে রাখতে চাইছে দল, ব্যাখা দলের নিচুতলারই।