এবারে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বৈঠক চলাকালীন তাঁর সামনে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে উঠল বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই বৈঠকে চরম বিশৃঙ্খলা ছড়ায় বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত দিলীপের নিরাপত্তারক্ষী ও সহায়করা বিজেপির বিক্ষুব্ধ নেতাদের রীতিমতো ধাক্কা দিয়ে সভাকক্ষ থেকে বার করে দেন। রবিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ শহরের সুপারমার্কেট এলাকায় একটি হোটেলের সভাকক্ষে।
বিজেপির উত্তর দিনাজপুরের প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী-সহ দলের জেলা কমিটির সদস্যদের এ দিনের বৈঠকে ডাকা হয়নি বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, বিশ্বজিৎকে বেআইনিভাবে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরানো হয়েছে, এই দুই অভিযোগ তুলে এ দিন বিশ্বজিতের অনুগামীরা দিলীপের সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বলে অভিযোগ। দিলীপের বক্তব্য, ‘‘বিশ্বজিৎবাবুকে বৈঠকে ডাকা হয়েছিল কি না, খতিয়ে দেখব।’’
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের মুখে গত ১৩ এপ্রিল তৎকালীন বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ীকে পদ থেকে সরিয়ে দেন দলের রাজ্য নেতৃত্ব। তাঁর জায়গায় ওই পদে বসানো হয় তৎকালীন দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব সরকারকে। নির্বাচন পরবর্তী দলীয় কর্মসূচি ঠিক করতে এ দিন ওই হোটেলের সভাকক্ষে দলের জেলা ও ব্লকস্তরের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন দিলীপ।
সেই বৈঠক চলাকালীন দলের কয়েকজন জেলা নেতাকে নিয়ে আচমকা সভাকক্ষে ঢুকে পড়েন বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য বলরাম চক্রবর্তী। বলরাম বলেন, ‘‘বিশ্বজিৎবাবু, আমাকে ও দলের জেলা কমিটির একাধিক সদস্যকে বৈঠকে ডাকা হয়নি। বাসুদেববাবুকে দলের জেলা সভাপতি হিসেবে যে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে, তাতে দিলীপবাবুর স্বাক্ষর নেই। এতেই দলের আইন অমান্য করে বিশ্বজিৎবাবুকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরানো হয়েছে বলে স্পষ্ট হয়েছে। আমরা দিলীপবাবুর সামনে ক্ষোভ প্রদর্শন করে তাঁকে এ সব
কথাই জানিয়েছি।’’
বিশ্বজিতের বক্তব্য, ‘‘দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি হিসেবে আমাকে ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য কেউ আমন্ত্রণ জানাননি।’’ বাসুদেবের অবশ্য দাবি, এ দিন বৈঠকে বিশ্বজিৎকে ডাকা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘‘অবাঞ্ছিত কিছু লোক আমার পদ ও দল নিয়ে কী বলছেন তা নিয়ে দল
ভাবছে না।’’