সম্প্রতি পুলিশের জালে ধরা পড়েছে কালিয়াচকের নওদা যদুপুরের ত্রাস বকুল শেখ। এ দিন জাকির শেখও ধরা পড়েছে। তিনি বকুলের বিপক্ষ গোষ্ঠীর নেতা। এলাকার সমস্ত দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন গ্রামবাসীরা।
গ্রামবাসীরা বলছেন, পুলিশের জালে বকুল ধরা পড়লেও তাঁর অনুগামী সহ অপর গোষ্ঠীর নেতারা এখনও অধরা। সেই দুষ্কৃতীদের হাতে অস্ত্রও রয়েছে। তাই এলাকার শান্তি ফেরাতে হলে পুলিশকে সকল দুষ্কৃতীকেই গ্রেফতার করতে হবে বলে দাবি করেছেন সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার ধৃত বকুল শেখকে হেফাজতে চেয়ে মালদহ জেলা আদালতে পেশ করে পুলিশ। সরকারি আইনজীবী জয়ন্ত মজুমদার বলেন, ১৪ দিনের আবেদন করা হলে সিজিএম মনোজকুমার প্রসাদ ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
কলকাতার পূর্ব যাদবপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার হয় একাধিক খুন, বোমাবাজির মামলায় অভিযুক্ত বকুল শেখ। কলকাতার একটি আদালতে থেকে তাঁকে দু’দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে সোমবার দুপুরে মালদহ নিয়ে আসে পুলিশ। বকুল শেখকে রাখা হয় মালদহ থানাতে। সেখানেই তাঁকে দফায় দফায় জেরা করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারের পরেও স্বাভাবিক রয়েছে বকুল শেখ। তবে পরিবারের লোকেদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি ওই এলাকায় খুন হয় জাকির শেখের ঘনিষ্ঠ ইব্রাহিম শেখের স্কুল পড়ুয়া ছেলে। অভিযোগ, তাকে অপহরণ করে খুন করে বকুল শেখ সহ তাঁর দলবল। ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা ইব্রাহিম শেখ। আর সেই আতঙ্কে ভুগছেন বকুল। পুলিশি হেফাজতে পরিবারের উপরে হামলার আশঙ্কা করেছেন কালিয়াচকের নওদা যদুপুরের ত্রাস বকুল শেখ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বকুলের বিরুদ্ধে ২২টি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। পরে রেকর্ড খতিয়ে দেখে আরও ছয়টি পুরোনো মামলার হদিশ পেয়েছে পুলিশ। সেখানে ডাকাতি এবং ছিনতাই এর মতো মামলা রয়েছে। আরও কোনও মামলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ দিন দুপুর ১২টা নাগাদ তাঁকে মালদহ জেলা আদালতে নিয়ে আসা হয়। এর জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়ন ছিল আদালত চত্বরে। পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি রক্তচাপ জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বকুল শেখ। তাই কলকাতায় চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন তিনি। কলকাতার পূর্ব যাদবপুর এলাকার একটি হস্টেলে ছিলেন তিনি। সেখান থেকে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, সহজেই যাতে তাঁকে চেনা না যায়, সে জন্য ভোল বদল করেছিল বকুল। মাথার চুল কদম ছাঁট করে ছেঁটে ফেলেছিলেন। গোঁফ না রাখলেও হালকা গোঁফ রেখে কলকাতা গিয়েছিলেন তিনি। তবে তারপরেও শেষ রক্ষা হয়নি।
এ দিকে, বকুলকে পুলিশ গ্রেফতার করার পরে এলাকার অপর এক ত্রাস জাকির শেখকেও গ্রেফতার করায় পরিস্থিতি অনেকটাই পুলিশের নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু বকুল শেখেরও অনেক সঙ্গী এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। যার জেরে আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসীরা। ফলে এদিনও নওদা যদুপুর এলাকা থমথমে ছিল। এই বিষয়ে মালদহের পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ বলেন, ‘‘ওই এলাকায় দুষ্কৃতীদের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আর প্রত্যেককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’’