পুরসভায় আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে তৃণমূল নেতাদের গোলমালের রেশ এ বার দলের বৈঠকেও।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হিলকার্ট রোডে তৃণমূল কার্যালয়ে দলের তরফে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি বৈঠক ডেকেছিলেন পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব। অভিযোগ, বৈঠক চলাকালীন যুব নেতা সঞ্জয় পালকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করার চেষ্টা করেন নিরঞ্জন সরকার নামে অপর যুব নেতা। তা নিয়ে হট্টগোল শুরু হয়। নিরঞ্জনবাবু যুব সভাপতি বিকাশ সরকারের অনুগামী বলেই পরিচিত। দলের মহিলারাও অনেকে ছিলেন বৈঠকে। পরিস্থিতি দেখে তারা শঙ্কিত হয়ে ওঠেন। দরজার কাছে বসে থাকা নেতাদের একাংশ উঠে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামলান।
দলেরই একটি সূত্র জানিয়েছে, নিরঞ্জনবাবুকে বকাঝকা করেন মন্ত্রী। সোমবার পুরসভায় গোলমাল নিয়েও নিন্দা করেন তিনি। মন্ত্রী মনে করেন পরিষদীয় দলের তরফে পুরসভায় কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল সেখানে অন্যদের নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা ঠিক হয়নি। উভয়পক্ষকেই এ সব ব্যাপারে সংযত হতে হবে। দলে যাতে শৃঙ্খলা থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দেন। গৌতমবাবু বলেন, ‘‘দলীয় কার্যালয় যেখানে ওই এলাকার বাসিন্দা দলেরই একজন নিরঞ্জন সরকার এবং সঞ্জয় পালদের মধ্যে কিছু কথাবার্তা হয়েছে। বৈঠক সেরে যাওয়ার সময় সঞ্জয় আমার সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছে। যুব সভাপতিও কথা বলেছেন। সংবাদ মাধ্যমের কাছে দলের বিষয়ে এর বাইরে কিছু বলার নেই।’’
সঞ্জয়বাবুর ঘনিষ্ঠ মহলের অভিযোগ, এ দিন ডাঙিপাড়া এলাকার বহিরাগত ছেলেদের ভুল বুঝিয়ে ডেকে এনেছিলেন নিরঞ্জনবাবু। পুরসভার গোলমালের প্রসঙ্গ টেনে সঞ্জয় পালকে পার্টি অফিসের ঘর থেকে বাইরে বার করার চেষ্টা করে নিরঞ্জন সরকার এবং তার লোকেরা। তা নিয়ে হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। সঞ্জয়বাবু বা নিরঞ্জনবাবু এ দিনের ঘটনা নিয়ে কিছু বলতে চাননি।
সোমবার শিলিগুড়ি পুরসভায় মেয়র অশোক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের আন্দোলনে কে নেতৃত্ব দেবেন তা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর গোলমাল বাধে। দলেরই একাংশের দাবি, নব্য তৃণমূল হিসাবে যাঁরা দলের এসেছেন তাঁদের পুরনো নেতৃত্বের একাংশ পছন্দ করছেন না। তার জেরেই গোলমাল।