কলকাতার ধর্মতলায় যখন এসআইআর-প্রতিবাদে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ধর্নায়, তখন ‘এসআইআর আতঙ্কে’ মৃত্যু কোচবিহারের এক যুবকের।
প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পরে দেখা যায়, বাড়ির পাঁচ জনের নাম বিবেচনাধীন। অভিযোগ, এর পর আতঙ্কে বিষপান করেন কোচবিহার ২ ব্লকের মধুপুর অঞ্চলের কালপানি এলাকার বাসিন্দা সামিনুর মিয়াঁ। শুক্রবার ৩১ বছরের ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
গত বুধবার রাতে বাড়িতে বিষপান করেন সামিনুর। পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের সকলের নাম বিবেচনাধীন হিসাবে ভোটার তালিকায় বার হতেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন যুবক। তার পর ওই কাণ্ড ঘটান।
সামিনুরকে ভর্তি করানো হয়েছিল কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজে। শুক্রবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তার পরেই তৃণমূল এবং বিজেপির তরজা শুরু হয়েছে এলাকায়। মৃতের ভাই জাবেদ মিয়াঁ বলেন, ‘‘দাদা আতঙ্কে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। সব কিছুই ঠিক ছিল বাড়িতে।’’ তিনি জানান, তাঁরা পাঁচ ভাইবোন। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ায় দেখানো হয়েছে, তাঁরা নয় ভাইবোন। সে জন্য শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। তখন প্রয়োজনীয় নথি দেওয়া হয়। প্রমাণ দেওয়ার পরেও সকলের নামের পাশে বিবেচনাধীন লেখা রয়েছে। ওই নিয়ে ভেঙে পড়েছিলেন দাদা। সামিনুরের মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন তাঁর ভাই।
আরও পড়ুন:
তৃণমূলে কোচবিহার-২ ব্লকের সভাপতি শুভঙ্কর দে-র দাবি, ‘‘একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে রাজ্যে। এসআইআরের আতঙ্কেই রয়েছে এর মূলে। কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে আরও একজন বলি হলেন কমিশনের প্রক্রিয়ার।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে এ সব করাচ্ছে। এর ফল বিজেপিকে ভুগতে হবে।’’ পাল্টা কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুকুমার রায় বলেন, ‘‘যে কোনও মৃত্যুই বেদনাদায়ক। তবে এই মৃত্যুর দায় তৃণমূল কংগ্রেসের। এসআইআরে নাম-না থাকলে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে, ভোটার কার্ড বাতিল করা হবে— এমন নানা ভাবে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল। এই মৃত্যু তো তারই পরিণাম।’’
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের পরিবারের তরফে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে তারা অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠিয়েছে।