Advertisement
E-Paper

‘চাপে পড়ে তোলা তুলেছি’! দুর্গামন্দিরে কিস্তিতে ‘কাটমানি’ শোধ দিচ্ছেন তৃণমূল কাউন্সিলর, প্রথম দফায় এক লাখ

কাউন্সিলর কাকলি ঘোষ স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তিনি তোলা তুলেছেন। তবে দলের কয়েক জন নেতার চাপে পড়ে ওই কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘নয়নজ্যোতি সাহার নির্দেশে, চাপে পড়ে আমি এমন কাজ করতাম।’’

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ১৮:১০
Cut Money Returns

‘কাটমানি’র টাকা ফেরত দিচ্ছেন তৃণমূল কাউন্সিলর। —নিজস্ব চিত্র।

দিকে দিকে তৃণমূলের নেতা এবং জনপ্রতিনিধিরা গ্রেফতার হচ্ছেন। সিংহভাগের বিরুদ্ধে তোলাবাজি এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে ‘কাটমানি’ ফেরত দিলেন মাথাভাঙা পুরসভার এক কাউন্সিলর। স্থানীয় দুর্গামন্দিরে এলাকাবাসীদের ডেকে যাঁর কাছ থেকে যত তোলা নিয়েছেন, সেই টাকার কিছু অংশ ফিরিয়ে দিলেন তিনি। জানালেন, ‘ইনস্টলমেন্ট’-এ (কিস্তিতে) টাকা ফেরাবেন। ওই দৃশ্য দেখে বিজেপির খোঁচা, ঠেলায় না পড়লে বেড়াল গাছে ওঠে না! রাজ্যবাসীর কাছে পরিষ্কার যে এঁরা জনপ্রতিনিধি হয়ে কী ভাবে দিনের পর দিন মানুষকে ভয় দেখিয়ে বেআইনি ভাবে রোজগার করেছেন।

মাথাভাঙা পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাকলি ঘোষ দুর্গামন্দিরে বসেছিলেন। তিনি এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে নানা কারণে নেওয়া মোট এক লক্ষ টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে খবর। অভিযোগ, আবাস যোজনায় বাড়ি দেওয়ার বিনিময়ে ‘কাটমানি’ নেওয়া থেকে সালিশি সভা ডেকে জরিমানা, সমস্ত অর্থ নিতেন কাউন্সিলর এবং যুব তৃণমূল নেতা নয়নজ্যোতি সাহা। বিধানসভা নির্বাচনের ফলঘোষণার পর এলাকা ছেড়েছেন যুবনেতা। কাউন্সিলরও গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। শেষমেশ বাড়ি ফিরে সকলের টাকা ফেরানোর আশ্বাস দেন।

স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে প্রথম ধাপে এক লক্ষ টাকা ফেরত দেন তিনি। তবে আরও কয়েক জন টাকা পাবেন বলে দাবি জানিয়েছেন। মাথাভাঙা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দেবজিৎ সাহা বলেন, ‘‘আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কাকলি ঘোষ এবং নয়নজ্যোতি সাহা আমার কাছ থেকেই ৪৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। তার মধ্যে ২৫ হাজার টাকা ফেরত দিলেন। তার পর পারিবারিক জমি সংক্রান্ত একটা ঝামেলা ছিল। সেখানেও আমার কাছ থেকে এঁরা ‘কাটমানি’ খেয়েছিলেন। ঘর (আবাস) পাওয়ার পরেও আমার কাছে টাকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি আর টাকা দিইনি।’’

টাকা ফেরত পাওয়া আর এক ব্যক্তি প্রণব প্রকাশের দাবি, ‘‘ব্যক্তিগত জমির কিছু সমস্যার সমাধান করার জন্য কাউন্সিলর আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ‘কাটমানি’ নিয়েছিলেন। তার মধ্যে ২৫ হাজার টাকা আমায় আজ ফেরত দিলেন। আর বাকি ২৫ হাজার টাকা কয়েক দিন বাদে দেবেন কথা দিয়েছেন। চার মাস আগে আমার থেকে এই টাকা তিনি নিয়েছিলেন। এখানে আরও কয়েক জনের টাকা তিনি ফেরত দিলেন।’’ তাঁর অভিযোগ, ‘‘যে কাজের জন্য আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন, সেই কাজ কিন্তু হয়নি। এখন সরকার বদলেছে দেখে নিজে থেকে ভয়ে টাকা ফেরত দিচ্ছেন।’’

কাকলি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তিনি তোলা তুলেছেন। তবে দলের কয়েক জন নেতার চাপে পড়ে ওই কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘নয়নজ্যোতি সাহার নির্দেশে, চাপে পড়ে আমি এমন কাজ করতাম। এখন উনি পলাতক। তাই সম্পূর্ণ দায়ভার আমার ঘাড়ে চেপেছে। একটু একটু করে সকলের টাকা ব্যক্তিগত ভাবে ফেরত দিচ্ছি।’’

Cut Money TMC tmc councillor Cooch Behar
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy