E-Paper

বিতর্কিত জমিতে বিজেপির অফিস, তরজা

বছর পাঁচেক আগে ওই পার্টি অফিস তৈরির প্রস্তুতি শুরু হতেই বিতর্ক ছড়ায়। ওয়াকফ বোর্ডের তরফে ওই জমি ‘ওয়াকফ সম্পত্তি’ বলে দাবি করে পুরসভায় চিঠি পাঠানো হয়।

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৫ ০৮:৫৩
জলপাইগুড়ির ডি বি সি রোডে ‘বিতর্কিত’ জমিতে বিজেপির পার্টি অফিস।

জলপাইগুড়ির ডি বি সি রোডে ‘বিতর্কিত’ জমিতে বিজেপির পার্টি অফিস। ছবি: সন্দীপ পাল।

জলপাইগুড়ি: ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। জলপাইগুড়ির ডি বি সি রোডে বিতর্কিত ওই আট কাঠা জমিতে বিজেপির পার্টি অফিস এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। দলীয় সূত্রে খবর, বিজেপির জেলা কমিটির তরফে রাজ্য সভাপতি-সহ একাধিক নেতাকে উদ্বোধনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বছর পাঁচেক আগে ওই পার্টি অফিস তৈরির প্রস্তুতি শুরু হতেই বিতর্ক ছড়ায়। ওয়াকফ বোর্ডের তরফে ওই জমি ‘ওয়াকফ সম্পত্তি’ বলে দাবি করে পুরসভায় চিঠি পাঠানো হয়। পার্টি অফিসের নকশা অনুমোদন করেও বাতিল করে পুরসভা। ‘বিতর্কিত’ জমি বলে জানিয়ে বিজেপিকে নোটিসও পাঠায়। ওই জমিতে কোনও নির্মাণ করতে নিষেধ করা হয়। তার পরেও ওই জমিতে টিনের উঁচু ঘেরাটোপ দিয়ে ভিতরে ধীরে ধীরে একতলা পার্টি অফিস তৈরি করা হয়েছে। তার সামনে আপেল, চন্দন গাছের বাগান। মার্বেল, গ্র্যানাইটে বাঁধানো সম্পূর্ণ বাতানুকূল পার্টি অফিস তৈরির অর্থের উৎস কী, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

ওই জমির তিন দিকে পার্টি অফিস তৈরি হয়েছে। এক দিকে বাগান ও খোলা আকাশের নীচে বসার জায়গা। অফিসে ঢুকতেই একটি ঘরে কম্পিউটার-সহ নানা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। সেটি ‘আইটি রুম’। তার পরে অন্তত ১৭০০ বর্গফুটের হলঘর। যাতে ন্যূনতম দু’শো জন বসতে পারবেন। ঘরে রয়েছে কুড়িটিরও বেশি সিলিং ফ্যান। হলঘরের পিছনেই সভাপতির বসার ঘর তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের মেঝেতে মার্বেল বসানো। কিছু কিছু জায়গায় গ্র্যানাইট। মূল প্রবেশপথের ডান দিকে তৈরি হয়েছে অতিথিদের অপেক্ষা করার জায়গা। পুরো লোহার কাঠামোয় তৈরি হচ্ছে ঘর। পার্টি অফিসের উপরে ব্যালকনিও রয়েছে।

জলপাইগুড়ির ডি বি সি রোডে বিজেপির পার্টি অফিস রয়েছে প্রায় তিন দশক ধরে। একটি টিনের চালের পাকা বাড়ি ছিল। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে পুরোনো পার্টি অফিস ভেঙে নতুনের কাজ শুরু হয়। বিজেপি অফিসের পাশেই রয়েছে নূর মঞ্জিল ভবন। ১৯৪২-৪৩ সালে খান বাহাদুর ওয়ালিয়ার রহমানের তৈরি ভবনটির আশপাশে ছিল মহম্মদ সোনাউল্লার জমি। মহম্মদ সোনাউল্লা ওয়াকফ স্টেটের ডেপুটি মোতোয়ালি বলেন, “সবই আমাদের নজরে আছে।” জলপাইগুড়ির পুরপ্রধান পাপিয়া পাল বলেন, “খোঁজ নিয়ে দেখছি। ওই জমিতে কোনও নির্মাণে নিষেধ রয়েছে।”

জেলা বিজেপি সভাপতি বাপি গোস্বামী বলেন, “পাঁচ বছর ধরে রাজ্য সরকার পার্টি অফিসের জমি নিয়ে তদন্ত করছে। এখনও রিপোর্ট প্রকাশ করল না কেন? ওই জমি পুরসভার নেতানেত্রীর পৈতৃক জমি নয়।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Jalpaiguri BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy