কোথাও জল জমে রয়েছে, কোথাও আবার জঙ্গলে ঢাকা ৷ যার জেরে কার্যত মশার আঁতুড়ঘরে পরিণত হচ্ছে জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ৷ অথচ সেগুলি পরিষ্কারের কোনও উদ্যোগ নেই৷ ডেঙ্গি নিয়ে মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি পুরসভার বৈঠকেই উঠে এলো এমনই তথ্য ৷
জলপাইগুড়িতে ইতিমধ্যেই ডেঙ্গিতে আক্রান্ত দুই রোগীর সন্ধান মিলেছে ৷ এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এ দিন জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান মোহন বসু একটি বৈঠক ডাকেন৷ বৈঠকে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও পুরসভার কাউন্সিলারদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন৷ এই বৈঠকেই শহরের বিভিন্ন স্কুল কলেজের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে দৈন্যদশার ছবিটা ফুটে ওঠে ৷
ডেঙ্গি নিয়ে হইচই শুরু হতেই শহরের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে মশা মারতে ধোঁয়া দেওয়ার কাজ শুরু করেছে পুরসভা৷ ইতিমধ্যেই কয়েকটি স্কুলে সে কাজ হয়েছে৷ কিন্তু এ দিনের বৈঠকে পুরসভার চেয়ারম্যান মোহন বসু বলেন, “শহরের বেশির ভাগ স্কুলের অবস্থাই খারাপ৷ কারণ সেখানে নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে না৷” পুরসভার কর্মীদের বক্তব্য, বিভিন্ন স্কুলে ধোঁয়া দেওয়ার কাজ করতে গিয়ে তারা দেখেছেন যে, পানীয় জলের ব্যবস্থা যেখানে রয়েছে সেখানে জল জমে রয়েছে কিংবা স্কুলে অনেক ফাঁকা জায়গাই জঙ্গলে ভরে গিয়েছে৷ যা মশার আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে ৷
মোহনবাবু স্কুলগুলির প্রতিনিধিদের জানিয়ে দেন, বিষয়টি নিয়ে স্কুলগুলিকে এক্ষুনি সতর্ক হতে হবে৷ কোনও পড়ুয়ার কিছু হয়ে গেলে তার জবাবদিহিও স্কুলকেই করতে হবে৷ সিএমওএইচ প্রকাশ মৃধা বলেন, ‘‘জেলায় ডেঙ্গি সেভাবে না ছড়ালেও, যে কোনও সময়ই তার প্রকোপ বাড়তে পারে৷ শুধু শহরের চারিদিক পরিষ্কার রাখলেই হবে না, শহরের মধ্যে থাকা শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলিকেও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে৷ না হলে তার দায় স্কুলগুলির ওপরই বর্তাবে৷’’
বৈঠকে উপস্থিতি বিভিন্ন স্কুলের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, স্কুল সাফাই করার মত কর্মী বা অর্থ কোনওটাই তাদের নেই ৷ এই পরিস্থিতিতে তাদের কিছুই করার নেই। কোনও কোনও স্কুলের প্রতিনিধিরা আবার ডেঙ্গির প্রকোপ বেশি থাকায় অন্তত এই সময়টা পুরসভাকেই স্কুল সাফাইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন ৷ চিঠি দিয়ে পুরসভার কাছে সেই আবেদন করার পরামর্শ দেন পুর কর্তৃপক্ষ।