Advertisement
E-Paper

টাকা বিলির অভিযোগে ডালুকে শো-কজ

ভোট প্রচারে গিয়ে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগে জড়ালেন দক্ষিণ কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী। গনি খানের ভাই আবু হাসেম তথা ডালুবাবু মঙ্গলবার সকাল দশটা নাগাদ ইংরেজবাজার পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কোঠাবাড়ি এলাকায় দলীয় প্রার্থীর প্রচারে গিয়ে এক বৃদ্ধাকে এক হাজার টাকা দেন বলে তৃণমূলের অভিযোগ। ডালুবাবু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০১৫ ০২:৪৮
নোট হাতে ব্রজবালা ঘোষ।

নোট হাতে ব্রজবালা ঘোষ।

ভোট প্রচারে গিয়ে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগে জড়ালেন দক্ষিণ কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী। গনি খানের ভাই আবু হাসেম তথা ডালুবাবু মঙ্গলবার সকাল দশটা নাগাদ ইংরেজবাজার পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কোঠাবাড়ি এলাকায় দলীয় প্রার্থীর প্রচারে গিয়ে এক বৃদ্ধাকে এক হাজার টাকা দেন বলে তৃণমূলের অভিযোগ। ডালুবাবু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মালদহের মহকুমা শাসক (সদর) নন্দিনী সরস্বতী বলেন, ‘‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব চেয়ে ডালুবাবুকে শো-কজ করেছি। তা পেলে পরের পদক্ষেপ করা হবে।’’

ডালুবাবুর সঙ্গে ছিলেন প্রার্থী নবীন দাস এবং স্থানীয় কংগ্রেস নেতা স্বপন সিংহ ও স্বপনবাবুর স্ত্রী তথা কংগ্রেস নেত্রী লিলি সিংহও। অভিযোগ, সে সময়ে ডালুবাবু প্রকাশ্যেই ওই বৃদ্ধাকে দেওয়ার জন্য জামার পকেট থেকে এক হাজার টাকার একটি নোট বার করে লিলিদেবীর হাতে দেন। লিলিদেবী ওই টাকা সাংসদের সামনেই সেই বৃদ্ধাকে দেন বলে অভিযোগ। জেলা তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি তথা ওই ওয়ার্ডের প্রার্থী দুলাল সরকার বলেন, ‘‘বেশ কিছু দিন ধরে আমরা শুনতে পাচ্ছিলাম, এলাকায় কংগ্রেস টাকা বিলি করছে। এ দিন সংবাদমাধ্যমে দেখতে পাই, ডালুবাবু এক বৃদ্ধা মহিলাকে টাকা দিচ্ছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিধি ভঙ্গের অভিযোগ করেছি।’’


টাকা বিলির মুহূর্ত।

ডালুবাবু অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘কাউকে টাকা দিইনি। অভিযোগ ভিত্তিহীন। সংবাদ মাধ্যমে দেখাচ্ছে, আমি পকেটে হাত দিয়েছি। তবে পকেট থেকে কী বার করছি, তা দেখায়নি।’’ তাঁর দাবি, তিনি পকেট থেকে একটি কাগজ বার করে তাঁর এক কর্মীকে দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ওই এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেছেন, কিন্তু কেউ বলতে পারবেন না যে, তিনি ভোটারদের টাকা দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘শো-কজের চিঠি পাইনি। পেলে তার উত্তর দেব।’’ প্রদেশ কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নানও একই সুরে বলেন, ‘‘সংবাদমাধ্যমে দেখলাম ডালুবাবু পকেটে হাত দিয়েছেন। তবে পকেট থেকে কী বার করেছেন, তা দেখতে পাইনি। তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে।’’’

ব্রজবালা ঘোষ নামে ওই বৃদ্ধা ভিক্ষা করে সংসার চালান। একটি ভাঙাচোরা ঘরে বিধবা মেয়েকে নিয়ে কোনওরকমে বসবাস করেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘‘এদিন যিনি এসেছিলেন, তাঁকে চিনি না। তবে আমাকে এক হাজার টাকা দিয়ে বলা হয় কিছু খেতে। এক জন আমাকে হাত দেখিয়ে বলেন, এই চিহ্নে ভোট দিতে। আমি কারও কাছে টাকা চাইনি।’’ ওই বৃদ্ধার মেয়ে মমতা ঘোষ পরিচারিকার কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘‘এদিন বাড়িতে ছিলাম না। তবে শুনেছি মাকে কংগ্রেস থেকে এক হাজার টাকা দিয়েছে। এর বেশি কিছু জানি না।’’

কংগ্রেস প্রার্থী নবীনবাবু অবশ্য দাবি করেন, তাঁদের প্রচারে ব্যাপক ভিড় হয়েছিল বলেই তৃণমূল চক্রান্ত করে সাংসদের নামে মিথ্যা অভিযোগ রটাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ‘‘ভোটে কারা টাকা বিলি করছেন, তা মানুষ নিজের চোখে দেখছেন। তাই এই বিষয়ে বেশি কিছু বলব না।’’

—নিজস্ব চিত্র।

ec show causes ec vs dalubabu englishbazar municipality election 2015 state election commission dalubabu abu hasem khan choudhuri
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy