ফের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) ‘আতঙ্কে’ মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। কোচবিহারের-২ নম্বর ব্লকের ঢাংঢিংগুড়ি এলাকার এক যুবক আত্মঘাতী হয়েছেন বলে দাবি পরিবারের। অভিযোগ, এসআইআরের শুনানির পর থেকেই প্রবল মানসিক চাপে ছিলেন শফিউল হক নামে ওই যুবক। পরিজনদের দাবি, মানসিক চাপে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
পরিবার সূত্রে দাবি, গত ২১ জানুয়ারি দু’নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে শফিউলকে ডাকা হয়েছিল। সেখানে তাঁর কাছ থেকে শুধু কাস্ট সার্টিফিকেট নেওয়া হয়। সেই সময় শফিউল লক্ষ করেছিলেন অন্যদের কাছ থেকে আরও অনেক নথি নেওয়া হচ্ছিল, কিন্তু শুধু তাঁর কাছ থেকেই কাস্ট সার্টিফিকেট নিয়েছিলেন আধিকারিকেরা। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রবল মানসিক চাপে ছিলেন বলে পরিবারের অভিযোগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে শফিউল তাঁর স্ত্রীকে বিডিও অফিসে যেতে বলেন। তার পর ঘরের দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেন বলে দাবি।
শফিউলের দাদা আতাউল হকের অভিযোগ, “এসআইআরের কারণেই তাঁর ভাই আত্মহত্যা করেছেন। শুনানি হওয়ার পর থেকেই প্রবল মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন তাঁর ভাই। সব সময় চিন্তা করতেন, তাঁকে হয়তো জেলে পাঠিয়ে দেবে। বাড়িতে খাওয়াদাওয়া ঠিক মতো করতেন না। আজ বৌদিকে বিডিও অফিসে পাঠিয়েছিলেন দাদা। তার পরেই ঘরের ভিতর দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেন। আমার দাদার মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী।”
আরও পড়ুন:
এ বিষয়ে ১৩২ নম্বর বুথের বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) কুলীনচন্দ্র রায় বলেন, “লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির কারণে জানুয়ারি মাসের ২১ তারিখে শফিউল হকের শুনানি হয়েছিল। তার পর থেকেই তাঁকে দেখতাম একটা মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে। বলেছিলাম কাগজপত্র জমা নেওয়া হয়েছে সব ঠিক হয়ে যাবে। তার পরও এই ধরনের কাণ্ড ঘটাবেন ভাবতে পারিনি।”
কোচবিহার-২ নম্বর ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি শুভঙ্কর দে বলেন, “এসআইআরের কারণে ঢাংঢিংগুড়ির বাসিন্দা শফিউল হকের বলি হল। তাঁকে জেলে পাঠানো হবে, পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে, সেই ভয়ে তিনি আত্মহত্যা করলেন। নির্বাচন কমিশন যে ভাবে সাধারণ মানুষদের বিপদে ফেলে দিয়েছে, এর ফল ভবিষ্যতে ভোগ করতে হবে।”