দাঁড়িয়ে থাকা এক ট্রাকের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারল এক সরকারি বাস। জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির জাতীয় সড়কের উপর এই দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। আরও ২১ জন যাত্রী গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের অবস্থা সঙ্কটজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। করেছেন আর্থিক সাহায্যের ঘোষণাও।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের উল্লাডাবাড়ি এলাকায়। স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহারগামী একটি যাত্রিবাহী সরকারি বাস জাতীয় সড়কের উপর দাঁড়িয়ে থাকা এক ট্রাকে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই ছিল যে বাসটির সামনের অংশ পুরো দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে।
ঘটনা নজরে আসতেই স্থানীয়েরা এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। খবর দেওয়া হয় পুলিশ এবং দমকলবাহিনীকে। বাসের জানলা ভেঙে যাত্রীদের একে একে বার করে আনা হয়। আহতদের দ্রুত ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর যাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাঁদের স্থানান্তরিত করা হয় জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, মৃতদের মধ্যে দু’জন ময়নাগুড়ির বাসিন্দা। জমুনা রায় এবং সজল সরকার। বাকিদের মধ্যে রয়েছেন কোচবিহারের বাসিন্দা শুভঙ্কর শীল এবং শিলিগুড়ির পম্পা দাস সাহা। এক জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ গোটা বিষয় খতিয়ে দেখছে। বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল নাকি চালকের ভুলে দুর্ঘটনা— তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
দুর্ঘটনার জেরে দীর্ঘ ক্ষণ ওই জাতীয় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আহত ও মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সুবিধার্থে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি হেল্পডেস্ক চালু করেছে। হাসপাতালের বাইরে উদ্বেগে অপেক্ষা করছেন আহতদের আত্মীয়-পরিজনেরা।
ময়নাগুড়ির দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এক্স পোস্টে লেখেন, ‘‘দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রিয়জনদের হারালেন তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা। আহত যাত্রীদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’’ রাজ্যের দুই মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং আনন্দময় বর্মণকে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উদ্ধার এবং সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন তিনি। মৃতদের পরিবারপিছু পাঁচ লক্ষ টাকা সাহায্যের কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু। এ ছাড়া, গুরুতর আহতদের এক লক্ষ এবং যাঁদের আঘাত তুলনামূলক কম তাঁদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হবে।