Advertisement
E-Paper

আলিপুরদুয়ারে অঝোর বৃষ্টিতে সেতুর রেলিং ভেঙে নদীতে পড়ল ট্রাক! মৃত দুই, টয়ট্রেন চলার সড়ক বন্ধই, উত্তরবঙ্গে ভারী বর্ষণ চলবে

ভান্ডানি নদীর জল বাড়তে থাকার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। অবশেষে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উপস্থিত হয় ঘটনাস্থলে। আবার শুরু হয় উদ্ধারকাজ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ১৬:১৪
আলিপুরদুয়ারে নদী থেকে তোলা হচ্ছে ট্রাক।

আলিপুরদুয়ারে নদী থেকে তোলা হচ্ছে ট্রাক। — নিজস্ব চিত্র।

৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে সেতুর রেলিং ভেঙে নদীতে পড়ে গেল ট্রাক। প্রাণ হারালেন দু’জন। স্থানীয় সূত্রের খবর, টানা বৃষ্টির জেরে দৃশ্যমানতা কমে গিয়েছে। কম দৃশ্যমানতার কারণে সেতুর প্রান্ত স্পষ্ট ভাবে দেখতে পাননি চালক। তার জেরেই শনিবার রাতে বিপত্তি বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গে ভারী বর্ষণ আপাতত চলবে। সেখানকার তিনটি জেলায় লাল সতর্কতা রয়েছে। সপ্তাহান্তের ভারী বৃষ্টিতে কয়েকটি সড়কে ধস নেমে যানচলাচল ব্যাহত হয়। কিন্তু আপাতত সে সব রাস্তায় যান চলাচল করছে। তবে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিংগামী ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক এখনও বন্ধ। বন্ধ টয়ট্রেন পরিষেবাও।

শনিবার রাতে একটি পণ্যবাহী ট্রাক আলিপুরদুয়ার থেকে হাসিমারা যাচ্ছিল। ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের মেন্দাবাড়ি সংলগ্ন ভান্ডানি সেতুর রেলিং ভেঙে সেটি নদীতে পড়ে যায়। রাতেই এলাকাবাসীরা চালক ও খালাসিকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু ভান্ডানি নদীর জল বাড়তে থাকার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। অবশেষে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উপস্থিত হয় ঘটনাস্থলে। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। কিন্তু লাগাতার বৃষ্টির কারণে নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেতে থাকায় তাদের কাজও বাধাপ্রাপ্ত হয়। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে থাকায় সমানতালে বাড়তে থাকে নদীর জলস্তর। রবিবার সকাল থেকে আবার উদ্ধারকাজ শুরু করে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। অবশেষে ট্রাকের চালক ও খালাসির দেহ উদ্ধার করা হয়।

গত কয়েক দিন ধরেই ভারী বৃষ্টি চলছে উত্তরবঙ্গে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রবল বৃষ্টির কারণে ভেঙে পড়ে দুধিয়া সেতু। ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নেমে বন্ধ হয় যান চলাচল। বিকল্প রোহিণী সড়ক ধরে চলতে থাকে যাতায়াত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দেন, কোনও পর্যটকের আটকে থাকার খবর মেলেনি। সিকিমেও কেউ আটকে নেই বলেই জানা যায়। তবে প্রশাসন আগেভাগে সতর্ক হয়ে পদক্ষেপ করে। বিভিন্ন জেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়। দুধিয়া সেতু পুনর্নির্মাণের কাজও চলছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে আগামী চার-পাঁচ দিনে তা তৈরি হয়ে যাবে।

সিকিম পুলিশের তরফে রবিবার জানানো হয়েছে, রাঙ্গচাঙে সিঙ্গতাম থেকে ডিকটু সড়ক বন্ধ। তা ছাড়া গ্যাংটক জেলায় সব সড়ক খোলা। রাবাংলা থেকে ইয়াংগাং সড়ক আপাতত বন্ধ রয়েছে। রাজ্যের বাকি সব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক খোলা রয়েছে।

রবিবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে প্রবল বর্ষণের (২০ সেন্টিমিটারের বেশি) লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া, দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহারেও ভারী থেকে অতি ভারী (৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার) বৃষ্টি হবে। আগামী শনিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এই আবহাওয়া-সতর্কতা জারি থাকবে। মালদহ, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টি না-হলেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে সারা সপ্তাহ ধরেই।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy