E-Paper

নালার স্রোতে মৃত্যু শিশুর, বিক্ষোভ

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নালার একাংশ দখল করে সাঁতালি পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের কমলাদেবী প্রসাদের স্বামী রমেশ বাড়ি করেছেন। তাতেই সমস্যার শুরু।

সৌম্যদ্বীপ সেন

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ০৬:৩৭

—প্রতীকী চিত্র।

চার বছরের মেয়ে ও বৃদ্ধা শাশুড়িকে নিয়ে হাসিমারা স্টেশনে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন আলিপুরদুয়ারের ভার্নাবাড়ি চা বাগানের শ্রমিক লাইনের বাসিন্দা শিলানা ওরাওঁ। প্রথমে মেয়ে জয়াকে বৃষ্টির জলে উপচে পড়া প্রায় ছয় ফুট গভীর নালা পার করান। পরে, শাশুড়িকে আনতে যান। সে সময়ে আচমকা পা পিছলে নালার স্রোতে ভেসে যায় জয়া। ঘণ্টা তিনেক পরে, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে সাঁতালি চা বাগানে মেলে তার নিথর দেহ। শুক্রবার সকালে আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকের হাসিমারা এলাকার ওই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়দের একাংশ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই নালার একাংশ দখল করে সাঁতালি পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের কমলাদেবী প্রসাদের স্বামী রমেশ বাড়ি করেছেন। তাতেই সমস্যার শুরু। ঠিকঠাক জল বেরোনোর রাস্তা না থাকায় একটু বেশি বৃষ্টি হলে প্রবল স্রোত দেখা দেয় ভোলা নামের ওই গভীর নালায়। এ দিন তাতেই ভেসে যায় শিশুটি। ছ’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জয়গাঁ-আলিপুরদুয়ার রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। প্রায় আধ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকে এশিয়ান হাইওয়ে। এ দিন বিক্ষোভ দেখানো হয় প্রধানের বাড়িতেও। নালা লাগোয়া কয়েকটি দোকানের ঝাঁপও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ভার্নাবাড়ি চা বাগানের এক শ্রমিক এলিসা মিঞ্জ তির্কি বলেন, ‘‘যবে থেকে নালা আটকে বাড়ি করা হয়েছে, তবে থেকে জল উপচে বাগানে আমাদের বসতি এলাকায় ঢোকে। গভীর নালা। বেশি বৃষ্টি হলে প্রবল স্রোত বয়। যে কোনও সময়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।’’ বাগানের শ্রমিকদের ক্ষোভ, ‘‘সমস্যার কথা একাধিক বার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল নেতার বাড়ি হওয়ায় কেউ, কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।’’ আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিতকুমার শা জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে এ দিন যান ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকেরাও। তাঁরা জানান, সমীক্ষা হবে। নির্মাণ অবৈধ হলে, কড়া পদক্ষেপ করা হবে। একাধিক বার চেষ্টা করেও মোবাইল ফোনে কমলা ও রমেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। এলাকার তৃণমূল নেতা আকাশ হরিজন বলেন, ‘‘আমাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে এই নালার সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি ছিল। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টা জানিয়েছিলাম। যদি কোনও অন্যায় হয়ে থাকে, প্রশাসন ব্যবস্থা নিক।’’

সন্তান হারানো শিলানা বলেন, ‘‘আমার কোল খালি হয়ে গেল। আর কারও কোল খালি হওয়ার আগে সরকার যেন ব্যবস্থা নেয়!’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Death Case

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy