Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

করিমুল-কাণ্ডে কড়া দফতর

নিজস্ব সংবাদদাতা
জলপাইগুড়ি ৩১ অক্টোবর ২০১৭ ০২:৪৫
জলপাইগুড়ি হাসপাতালে ব্লাড ব্যাঙ্কের সামনে উত্তেজিত করিমুল হক। ছবি: সন্দীপ পাল

জলপাইগুড়ি হাসপাতালে ব্লাড ব্যাঙ্কের সামনে উত্তেজিত করিমুল হক। ছবি: সন্দীপ পাল

অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের জন্য রক্ত চাইতে গিয়ে পদ্মশ্রী করিমুল হকের ‘অপমানিত’ হওয়ার ঘটনায় জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীদের সতর্ক করল জেলা স্বাস্থ্য দফতর৷

ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে ব্লাড ব্যাঙ্কের সমস্ত কর্মীকে এ দিন নির্দেশ দেন সিএমওএইচ জগন্নাথ সরকার৷ রক্ত নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা রুখতে এ বার থেকে জেলা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড লাগানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্তারা৷

গত শনিবার জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজাডাঙায় করিমুল হকের বাড়িতেই শৌচাগারে পড়ে যান তাঁর দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা কন্যা শিমু বেগম৷ সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে জলপাইগুড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়৷ হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করেই তাকে এক বোতল রক্ত দেওয়া হয়৷ কিন্তু বিকেলের দিকে আরেক বোতল রক্তের জন্য করিমুল হক ব্লাড ব্যাঙ্কে যেতেই সেখান কর্মীরা তাঁর সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা, অপমান ও দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ৷ এই ঘটনায় ব্লাড ব্যাঙ্ক চত্বরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন করিমুল৷

Advertisement

ঘটনার কথা জানাজানি হতেই তোলপাড় শুরু হয়ে যায় প্রশাসনিক মহলে৷ তড়িঘড়ি হাসপাতালে ছুটে গিয়ে করিমুলের মেয়ের জন্য রক্তের ব্যবস্থা করেন স্বাস্থ্যকর্তারা৷ তাঁদের কাছ থেকে টেলিফোনে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেন স্বাস্থ্য দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য৷ জলপাইগুড়ির জেলাশাসকের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত শুরু করেন সদর মহকুমাশাসক৷ স্বাস্থ্য দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, করিমুল নির্দিষ্টভাবে লিখিত কোনও অভিযোগ করলে তিনি অবশ্যই তা খতিয়ে দেখবেন৷ কিন্তু ব্লাড ব্যাঙ্কের কোনও কর্মী যাতে সমস্যায় না পড়েন, সে জন্যই তা থেকে বিরত থাকেন বলে জানান করিমুল৷

তবে এ ধরনের ঘটনা রুখতে ব্যবস্থা যে নেওয়া হবে তার ইঙ্গিত রবিবারই মিলেছিল৷ সেই অনুযায়ী এ দিন দুপুরে ব্লাড ব্যাঙ্কের সমস্ত কর্মীকে নিজের দফতরে ডেকে পাঠান সিএমওএইচ জগন্নাথবাবু৷ ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে কর্মীদের সতর্ক করে দেন তিনি৷

এই ঘটনা থেকে ‘শিক্ষা নিয়ে’ জলপাইগুড়ি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে ইলেক্ট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড লাগানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর৷ ব্লাড ব্যাঙ্কে কোনও গ্রুপের রক্ত এলে বা ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে তা বেরিয়ে গেলে, খাতায় এন্ট্রি করার সঙ্গে সঙ্গেই তা ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ডে উঠে যাবে৷ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার সুশান্ত রায় বলেন, ‘‘এর ফলে ব্লাড ব্যাঙ্কে কোন গ্রুপের রক্ত কতটা রয়েছে তার প্রতি মুহূর্তের আপডেট ডিসপ্লে বোর্ডেই দেখতে পাবেন রোগীর আত্মীরা৷ ফলে রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্মীদের ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনাও কমে।’’

আরও পড়ুন

Advertisement