×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৫ মার্চ ২০২১ ই-পেপার

সতর্কতা জারি শিলিগুড়ি জুড়ে

নিজস্ব সংবাদদাতা
শিলিগুড়ি ০৩ অক্টোবর ২০১৮ ০৩:০৪
ফাইল চিত্র।

ফাইল চিত্র।

কলকাতার নাগেরবাজারে বিস্ফোরণের জেরে বাড়তি সতর্কতা জারি হয়েছে শিলিগুড়িতে। মঙ্গলবার বিকেলে থেকেই শিলিগুড়িতে যাতায়াতের সব ক’টি রাস্তায় যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। রাতভর বাংলাদেশ সীমান্তের ফুলবাড়ি লাগোয়া এলাকা ও নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি, খড়িবাড়ির রাস্তাতেও নাকা চেকিং বাড়িয়েছে পুলিশ। বাগডোগরা, মাটিগাড়া, ইস্টার্ন বাইপাস, আমবাড়ির মতো এলাকাতেও যানবাহনে তল্লাশি করছে পুলিশ। রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগও এনজেপি, তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নজরদারি বাড়িয়েছে।

রাজ্য পুলিশের উত্তরবঙ্গের এক শীর্ষ কর্তা জানান, অবস্থানগত কারণেই শিলিগুড়িকে ব্যবহার করতে সক্রিয় একাধিক দুষ্টচক্র। সেই কারণেই নিয়মিত সীমান্তবর্তী সব কটি রাস্তায় নাকা চেকিং হয়। কলকাতায় বিস্ফোরণের পরে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে সেই তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে বলে ওই পুলিশ কর্তা জানান।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে ‘শিলিগুড়ি করিডর’ অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত। অতীতে শিলিগুড়ি থেকে প্রচুর বিস্ফোরক, অস্ত্র-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গি গোষ্ঠীর একাধিক চাঁই ধরা পড়েছে। উপরন্তু, শিলিগুড়ির খড়িবাড়ির গা ঘেঁষে একদিকে নেপাল, পাশেই বিহার। তাই বিহারের অস্ত্র, বিস্ফোরক কারবারিরাও শিলিগুড়ি করিডর ব্যবহার করে বলে সন্দেহ পুলিশ ও গোয়েন্দাদের। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের এক অফিসার জানান, সে জন্য বিহার থেকে আসা যানবাহনেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Advertisement

এতদসত্ত্বেও শিলিগুড়িতে রাত নামলেই বিহারের দুষ্কৃতীদের আনাগোনা যে চলছে, তা একান্তে মানছেন পুলিশ ও গোয়েন্দা অফিসারদের কয়েক জন। তাঁরা জানান, বিহারে মদ নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে সন্ধ্যা নামলেই সে রাজ্য থেকে দুষ্কৃতীদের একাংশের আনাগোনা বেড়ে গিয়েছে শিলিগুড়িতে। তল্লাশি বাড়ানোয় সেই আনাগোনা কমবে বলে দাবি পুলিশ ও গোয়েন্দাদের।

আজ, বুধবার শিলিগুড়ির বাগডোগরায় পৌঁছবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে গজলডোবায় যাওয়ার কথা তাঁর। তাই বাগডোগরা থেকে শিলিগুড়ি যাতায়াতের সব কটি রাস্তাতেও বাড়তি নাকা চেকিং শুরু হয়েছে। গভীর রাত অবধি পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের রাস্তায় নেমে তল্লাশির তদারকি করতে দেখা গিয়েছে।

Advertisement