স্ত্রীর খুনে ধৃত বিএলও-কে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণে গেল কোচবিহারের কোতায়ালি থানার পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে খুনের ব্যবহৃত সেই ছুরি। অন্য দিকে, মৃতার বাপের বাড়ির লোকজন জামাইয়ের বাবা-মা এবং দাদার বিরুদ্ধেও থানায় অভিযোগ করেছে।
গত সোমবার কোচবিহার পুরসভার ১৭৭ নম্বর বুথের বিএলও, পেশায় গ্রন্থাগারিক রাজদীপ বড়ুয়া মত্ত অবস্থায় স্ত্রী অম্বালিকা বড়ুয়াকে কুপিয়ে খুন করেন বলে অভিযোগ। ঘটনার পরের দিনই রাজদীপকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অম্বালিকার বাপের বাড়ির পক্ষ থেকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির চার সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাজদীপের দাদা অমরদীপ বড়ুয়াকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ওই যুবক বলেন, ‘‘তদন্তের স্বার্থে পুলিশ বা আদালত, যে যখন যা নির্দেশ দেবে, সেই মতো সহযোগিতা করব।’’ তিনি জানান, ভ্রাতৃবধূকে খুন করেছেন ভাই-ই। অমরদীপের কথায়, ‘‘আমার ভাই যে অন্যায় করেছে, তাকে তার শাস্তি পেতে হবে। আমাদের নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কিন্তু আমরা তো কোন অন্যায় করিনি। ভাই অন্যায় করেছে। তার শাস্তি তাকে দেওয়া হোক।’’ তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি বাজার থেকে বাড়ি ফিরে খেতে বসেছিলেন। সেই সময় ভাইয়ের ঘর থেকে চিৎকার শুনতে পান। তিনি এবং তাঁর মা ছুটে গিয়ে দেখেন ভ্রাতৃবধূ রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু অম্বালিকাকে বাঁচানো যায়নি।
আরও পড়ুন:
অম্বালিকা বাপের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, জামাই পানাসক্ত। স্ত্রীকে খুনের দিনও শ্বশুরবাড়ি এলাকা, শহরের তিন নম্বর ওয়ার্ডের একটি ঠেকে বসে মদ্যপান করেছেন। ওই নিয়ে বাড়িতে অশান্তি হওয়ায় স্ত্রীকে খুন করেন তিনি।
আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার থেকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে থাকবেন বিএলও। কোচবিহারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তন্ময় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অভিযুক্তকে আমরা তিন দিনের পুলিশ হেফাজত পেয়েছি। তাই, বুধবার তাঁকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল পুলিশ। আমরা রক্তে মাখা একটি ছুরি উদ্ধার করতে পেরেছি। রক্তাক্ত জামাকাপড়ও উদ্ধার হয়েছে। সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।’’