বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়নি৷ কোনও রাজনৈতিক দল প্রার্থিতালিকাও প্রকাশ করেনি। কিন্তু শিলিগুড়ির মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব নিজের নামে দেওয়াল লিখনও শুরু করে দিয়েছেন! বুধবার শিলিগুড়িতে তুলি নিয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে নিজের নাম লেখা শুরু করে দিয়েছেন তিনি। যা নিয়ে কটাক্ষ শানাল বিজেপি। সপ্তাহখানেক আগে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকায় একটি সরকারি অনুষ্ঠানে শিলিগুড়ির মেয়র জানিয়ে দেন ওই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এ বার প্রার্থী হবেন না তিনি। বিজেপির প্রার্থীকে জয়যুক্ত করার জন্য একপ্রকার ভোটারদের দুষে গৌতম জানান, আগামী বিধানসভায় তিনি শিলিগুড়ি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ওই নিয়ে জেলা তৃণমূলের অন্দরেই চাপানউতর শুরু হয়। এ বার আরও এক পা এগিয়ে নিজের নামে দেওয়াল লিখন শুরু করে দিলেন প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী।
শিলিগুড়ির ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে মেয়রের বাড়ি। ওই এলাকার দেওয়ালে দেওয়ালে তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে গৌতমের নাম লেখা হয়। অনুগামীদের দাবি, এ ভাবেই নির্বাচনী প্রচারে তাঁরা দলকে এগিয়ে রাখছেন।
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির মতো শিলিগুড়িতেও পরাজিত হয় তৃণমূল। তৃণমূলের ওমপ্রকাশ মিশ্রকে হারিয়ে এবং ‘অশোক মডেল’কে ভেঙেচুরে জয়ী হন সিপিএম ছেড়ে পদ্মশিবিরে যাওয়া শঙ্কর ঘোষ। জয়ের ব্যবধান ছিল প্রায় ৬০ হাজার ভোট।
এ বারও বিজেপি শঙ্করকেই শিলিগুড়িতে প্রার্থী করবে বলে কানাঘুষো খবর। তবে সবটাই আলোচনার স্তরে রয়েছে। গৌতমের দেওয়াল লিখন নিয়ে শঙ্করের কটাক্ষ, ‘‘নিজেই নিজের নাম বলে দিচ্ছেন। নিজেই দেওয়ালে নাম লিখছেন। আসলে লোক খুঁজে পাচ্ছে না উনি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের আগে বিজেপি প্রচার শুরু করেছে। তবে আগ বাড়িয়ে কেউ এমন কাজ করছেন না। এমনিতে শহরে (শিলিগুড়ি) যা চলছে, তাতে এই অদক্ষ মেয়রের ন্যূন্যতম বিবেক থাকলে তিনি পদত্যাগ করতেন।’’
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, গৌতম বলেন, ‘‘যদি দল প্রার্থী করে তা-হলে আমার নাম লেখা হবে। আমরা নির্বাচনী লড়াইয়ে খানিকটা এগিয়ে থাকতে চাই। দল যখন নাম ঘোষণা করবে, তখন নাম-সহ পোস্টার পড়বে। কিন্তু প্রার্থী হই বা না-হই, দলের কাজ করতে দলকে এগিয়ে রাখতেই দেওয়াল লিখন।’’