Advertisement
১৬ এপ্রিল ২০২৪

হেভিওয়েটরা হতাশ, উত্তর দিনাজপুরে সভাধিপতি কবিতা

এবার ইটাহার থেকে জয়ী হয়েছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি অমল আচার্যের মেয়ে পূজা আচার্য। হেমতাবাদ থেকে জয়ী হয়েছেন জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি গৌতম পালের স্ত্রী পম্পা পাল।

নির্বাচিত: উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সঙ্গে কবিতা ও ফারহাত। —নিজস্ব চিত্র

নির্বাচিত: উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সঙ্গে কবিতা ও ফারহাত। —নিজস্ব চিত্র

নিজস্ব সংবাদদাতা
রায়গঞ্জ শেষ আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০১৮ ০১:৪৫
Share: Save:

দাবিদারের তালিকায় ছিলেন দলের হেভিওয়েট নেতা, মন্ত্রী ও বিধায়কের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়েরা। কিন্তু এঁদের সকলকেই হতাশ করলেন তৃণমূল রাজ্য নেতৃত্ব। উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি পদে বসানো হল যথাক্রমে কবিতা বর্মণ ও ফারহাত বানুকে। কবিতা হেমতাবাদ ও ফারহাত ইসলামপুরের জেলা পরিষদের আসন থেকে জয়ী হয়েছেন।

অবশ্য কোনও মন্ত্রী-বিধায়কের আত্মীয়কে জেলা পরিষদের শীর্ষ পদে বসানো হবে না বলে আগেই বলেছিলেন তৃণমূলের জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী। জেলা পরিষদের দলীয় সদস্যদের নিয়ে গত ২৮ অক্টোবর কলকাতায় দলীয় বৈঠকে সেটা স্পষ্ট করে দেন শুভেন্দু। এ দিন শুভেন্দুর পাঠানো মুখবন্ধ করা খাম নিয়ে সভাধিপতি নির্বাচনের বৈঠকে হাজির হন মালদহ জেলা তৃণমূল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন। বৈঠকে মোয়াজ্জেম সেই খাম খুলে দলীয় চিঠি পড়ে সভাধিপতি পদে কবিতা ও সহকারী সভাধিপতি পদে ফারহাতের নাম ঘোষণা করেন। দলের রাজ্য নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত মেনে কবিতা ও ফারহাতকে সমর্থন করেন তৃণমূলের সমস্ত সদস্য। নিজেদের নাম ঘোষণা হতেই অবাক হয়ে যান কবিতা ও ফারহাত। বিষয়টি জানাজানি হতেই জেলা পরিষদের বাইরে উল্লাসে মেতে ওঠেন তাঁদের অনুগামীরা। কবিতা ও ফারহাত জানান, দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। জেলা পরিষদের সমস্ত সদস্য-সহ দলের জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করবেন তাঁরা।

কবিতার স্বামী প্রফুল্ল বর্মণ বিদায়ী জেলা পরিষদের তৃণমূলের কৃষি কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি দলের হেমতাবাদ ব্লক সভাপতির পদে। ফারহাতের স্বামী জাভেদ আখতারও বিদায়ী জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্য ছিলেন।

এবার ইটাহার থেকে জয়ী হয়েছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি অমল আচার্যের মেয়ে পূজা আচার্য। হেমতাবাদ থেকে জয়ী হয়েছেন জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি গৌতম পালের স্ত্রী পম্পা পাল। করণদিঘি থেকে জয়ী হয়েছেন করণদিঘির তৃণমূল বিধায়ক মনোদেব সিংহের স্ত্রী বিপাশা দাস সিংহ ও করণদিঘি ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি আজাদ আলির স্ত্রী শেহেরবানু বিবি। গোয়ালপোখর থেকে জয়ী হয়েছেন মন্ত্রী গোলাম রব্বানির ভাই গোলাম রসুল। চাকুলিয়া থেকে জিতেছেন জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহিদ আলম আরজুর স্ত্রী নিখাত পারভীন। ইসলামপুর থেকে জয়ী হয়েছেন চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমানের মেয়ে আরজুনা বেগম। এঁরা সকলেই জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি পদের অন্যতম দাবিদার ছিলেন। এদিন তাঁদের মধ্যে কেউ সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন তাঁরা। হতাশা ছড়ায় তাঁদের অনুগামীদের মধ্যেও। অমলবাবুর দাবি, দলের সিদ্ধান্ত সবাইকে মানতে হবে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE