বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে আক্রান্ত হলেন ইসলামপুর টাউন বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি অপূর্ব চক্রবর্তী। বুধবার রাতে ইসলামপুরের গুঞ্জরিয়াতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর উপরে ওই হামলার পরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে বিজেপি। তৃণমূল অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উত্তর দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ কার্তিকচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘‘ঘটনার তদন্ত চলছে।’’ পুলিশ এবং স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, প্রবীণ অপূর্ববাবুকে বেহুঁশ অবস্থায় শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়েছে।
অপূর্ববাবু ইসলামপুর আদালতের ল’ক্লার্ক। গুঞ্জুরিয়াতে এক সহকর্মীর মেয়ের বিয়েতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে দুষ্কৃতীরা তাঁর উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। জাতীয় সড়কের ধারে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অপূর্ববাবু এ দিন সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। বিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে বাড়ি ফেরার সময় তাঁর সঙ্গে কেউ ছিলেন কি না, সেই প্রশ্নের এখনও উত্তর মেলেনি। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
অপূর্ববাবুর ছেলে প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘রাত ১০টা নাগাদ খবর পাই বাবা আহত হয়েছেন। বাবার জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত কিছু বোঝা যাচ্ছে না। দুষ্কৃতীরা বাবাকে ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত করছে। নাক এবং কান দিয়ে প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হয়েছে।’’ তাঁর বাবাকে কেন দুষ্কৃতীদের হামলার শিকার হতে হল, তা বুঝতে পারছেন না বলে দাবি করেন।
দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯
বিজেপির উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্পাদক সুরজিৎ সেনের অভিযোগ, ‘‘অপূর্ববাবু দলের সক্রিয় নেতা। ভাল সংগঠক। ভোটের আগে তৃণমূল সন্ত্রাস কায়েম শুরু করেছে। তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাই হামলা চালিয়েছে। এই বিষয়ে ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’’ তৃণমূলের ইসলামপুরের ব্লক সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ‘‘এর সঙ্গে তৃণমূল জড়িত নয়। বিজেপি ভোটের আগে অপ্রচার করছে।’’ বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই অপূর্ববাবু আক্রান্ত হয়েছেন বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন।