শরীরের নানা ব্যথায় কম বেশি সকলেই ভোগেন। তার জন্য অনেকেই চিকিৎসা করাতে বেসরকারি ‘পেইন ক্লিনিক’-এ ছুটে যান। অভিযোগ, কারি কারি টাকা খরচ করেও সুস্থ হতে পারেন না অনেকেই। এ বার ওই সমস্যার সমাধান করছে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের ‘পেইন ক্লিনিক’। এখানেই এখন চিকিৎসা করে প্রচুর মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। ব্যাপক সাড়া পড়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল সুপার চন্দন ঘোষ।
শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে শুধু এই শহর নয় বাইরে থেকেও প্রচুর রোগী আসেন। নিত্যদিন এখানে ভিড় লেগেই থাকে। তবে বরাবর এই ‘পেইন ক্লিনিক’-এর খোঁজ করতেন অনেকে। তা না থাকায় অনেকেই মুখ ফিরিয়ে চলে গিয়েছেন। গত ৬ মাস ধরে এই ক্লিনিক চলছে। ডাক্তার অঙ্কিতা সিংহ রায়ের তত্ত্বাবধানে এই ক্লিনিক চলছে। এখনও অবধি কয়েকশো রোগী চিকিৎসা করিয়েছেন। তার মধ্যে ৫০ জনকে আবার ব্যাথার ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে। তারা এখন সকলেই ঠিক আছেন। চেক আপে এসে ডাক্তারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন বহু জন। দাবি কর্তৃপক্ষের।
আরও পড়ুন:
নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক রোগী বলেন, “হাঁটুতে ব্যাথা ছিল। চিকিৎসা করিয়ে দারুণ সাড়া পেলাম। এখন আগের থেকে অনেকটাই ভাল আছি।” একই রকম অনুভূতি বাকি অনেকেরই। এ বিষয়ে অঙ্কিতা বলেন, “এখানে ঘাড়, হাঁটু-সহ গাঁটের ব্যাথা নিয়ে অনেকেই আসেন। তাঁদের সকলের চিকিৎসা করা হয়েছে। প্রয়োজনে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে। সকলেই ভাল আছেন।”
জেলা হাসপাতালে যাঁরা চিকিৎসা করান, তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষের বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা করানোর ক্ষমতা নেই। তাই এই চিকিৎসা শুরু হওয়ায় তাঁরাও বেশ খুশি। এ বিষয়ে চন্দন বলেন, “গত ৬ মাস ধরে এই ক্লিনিক চলছে। মানুষের ভাল সাড়া পড়েছে। আমাদের হাসপাতালে এই প্রথম এ ধরনের চিকিৎসা করা হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল উত্তরবঙ্গের মধ্যে অন্যতম সেরা। কেন্দ্র সরকার থেকে বিভিন্ন বিষয়ে ৫টি পুরষ্কার পেয়েছে। এখানে জরুরি বিভাগ, বহির বিভাগ, পুরুষ ও মহিলার মেডিক্যাল, অস্ত্রোপচার ওয়ার্ড, মা ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ-সহ আরও অনেক বিভাগ রয়েছে। এ বার ‘পেইন ক্লিনিক’ চালু করেছে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল।