ভোটার তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ নাম নথিভুক্ত হবে না ‘যুব সাথী’ প্রকল্পে— এমনই এক ওয়টস্যাপ-বার্তা ঘিরে শনিবার হইচই হল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে। যদিও জেলা প্রশাসনের দাবি, ভোটের তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ থাকলেও রাজ্য সরকারের প্রকল্প থেকে কেউ বঞ্চিত হবেন না।
সূত্রের খবর, মালদহে ‘যুব সাথী’-তে নাম তোলার জন্য লক্ষাধিক আবেদন জমা পড়েছে। পাশাপাশি, জেলায় ভোটার তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ আট লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জন। তার মধ্যে হরিশ্চন্দ্রপুরে ‘বিবেচনাধীন’ ৯১,৯৭৮ জন।
‘যুব সাথী’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার কথা ছিল এ দিন। কিন্তু ওয়টস্যাপে হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের নোডাল অফিসার তথা ব্লক শিল্পোন্নয়ন আধিকারিক ফিরোজ আলির একটি বার্তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে লেখা ছিল— ‘যদি (কারও নাম) ‘বিবেচনাধীন’ থাকে, তা হলে তার নাম এন্ট্রি করতে হবে না’। সমাজমাধ্যমে ছড়ানো ওই ‘স্ক্রিনশট’-এ দেখা গিয়েছে জনৈক কর্মী জানতে চেয়েছেন, যাঁদের নাম ইতিমধ্যে সরকারি পোর্টালে উঠেছে, তাঁদের ক্ষেত্রে কী হবে? উত্তর দেওয়া হয়েছে, ‘ওগুলো থাক। এখন থেকে এই নির্দেশ মানবেন’।
শোরগোল পড়তেই ফিরোজ বলেন, ‘‘ভুল বোঝাবুঝি থেকে ওগুলো লেখা হয়েছিল। বিডিওকে জানিয়েছি।’’ ফোন এবং বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিক্রিয়া মেলেনি হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের বিডিও তাপসকুমার পালের। তবে মালদহের জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল বলেন, ‘‘ভোটার তালিকায় বিবেচনাধীনেরা যুব সাথীর টাকা পাবেন না, এমন সরকারি নির্দেশিকা নেই। আবেদনকারীরা ওই টাকা পাবেন। বিভ্রান্তি ছড়াতে সমাজমাধ্যমে কেউ ভুল তথ্য পরিবেশন করছেন। কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।’’
বিজেপির উত্তর মালদহের সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী এক দিকে, টাকা দেওয়ার ঘোষণা করছেন। অন্য দিকে, ‘বিবেচনাধীন’ দেখিয়ে প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটাই তৃণমূলের চরিত্র।’’ পাল্টা তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী বলেন, ‘‘ব্লক অফিসের ঘটনা প্রশাসন দেখছে। তবে মানুষকে ‘বিবেচনাধীন’ রেখে সমস্যায় ফেলেছে বিজেপিই।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)