×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৪ মার্চ ২০২১ ই-পেপার

লকআপে মৃত্যু, ফাঁড়ি উত্তাল

জয়ন্ত সেন
মিলকি ১৫ অক্টোবর ২০১৯ ০১:২০
 মিলকি থানায় আগুন। নিজস্ব চিত্র

মিলকি থানায় আগুন। নিজস্ব চিত্র

জুয়ার ঠেক থেকে গ্রেফতার হওয়া এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে রবিবার রাতে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে মালদহের মিলকি পুলিশ ফাঁড়ি। লকআপে পুলিশের মারধরেই ওই ব্যক্তি মারা গিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে উত্তেজিত জনতা ফাঁড়িতে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। তাতে দুই পুলিশ অফিসার ও দুই সিভিক ভলান্টিয়ার আহত হন। অভিযোগ, হামলার সময় জুয়ার আসর থেকে আটক সাত অভিযুক্ত পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যায়। জনতার তাণ্ডবের জেরে ফাঁড়ি ছেড়ে পুলিশ পালিয়ে যায়। শেষে ইংরেজবাজার থানা ও জেলা সদর থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এই ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম আইনুল খান (৫৫)। তার বাড়ি নিয়ামতপুরের ভগবানপুর গ্রামে। সে পেশায় ভুটভুটি চালক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লক্ষ্মীপুজোর সন্ধেয় জুয়ার আসর বসেছিল ইংরেজবাজারের ফুলবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নিয়ামতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। খবর পেয়ে রাত ৯টা নাগাদ পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের একটি দল সেখানে হানা দেয়। সেখানেই আইনুল খান-সহ (৫৫) আটজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের নিয়ে যাওয়া হয় মিলকি পুলিশ ফাঁড়িতে। আইনুলের স্ত্রী সলেনা বিবির দাবি, তাঁর স্বামী ওইদিন সন্ধেয় চা খেতে বাসস্ট্যান্ডে গিয়েছিল। জুয়ার আসরে হানা দেয় পুলিশ এবং জুয়ারিরা পালিয়ে যায়। তাঁর স্বামী কিছু না বুঝতে পেরে ভয়ে পালাচ্ছিল। কিন্তু সিভিক ভলান্টিয়াররা স্বামীকে বেধড়ক মারধর করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। সলেনার অভিযোগ, তাঁর স্বামীকে ফাঁড়ির লকআপেও বেধড়ক মারধর করেন সিভিক ভলান্টিয়ার ও পুলিশকর্মীরা। তাতেই তাঁর স্বামী মারা যান। একই দাবি মৃতের দুই মেয়ে রুকসানা ও রোকেনারও। পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া সাংবাদিক বৈঠক করে অবশ্য দাবি করেন, ‘‘আটজনকে নিয়ামতপুরের জুয়ার ঠেক থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। মারধরের কোনও ঘটনাই ঘটেনি। মিলকি ফাঁড়িতে নিয়ে গেলে আইনুল অসুস্থতা বোধ করেন। তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে ফাঁড়ির পাশেই মিলকি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজে রেফার করেন। কিন্তু সেইসময় হাজারেরও বেশি মানুষ ফাঁড়ি ও হাসপাতাল চত্বর ঘিরে থাকে। রোগীকে নিয়ে যেতে বাধা দেয়। ফলে সেখানেই মৃত্যু হয় আইনুলের।’’

আইনুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মিলকি ফাঁড়ি ও হাসপাতাল চত্বর। অভিযোগ, কয়েক হাজার লোক ফাঁড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশের দু’টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ফাঁড়ি সংলগ্ন পুলিশ ব্যারাকেও ভাঙচুর করা হয়। দুই পুলিশ আধিকারিক ও দুই সিভিক ভলন্টিয়ার আহত হন। পুলিশ সুপার বলেন, ‘‘সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি, পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলবে। এ নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’’

Advertisement
Advertisement