E-Paper

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ক্ষতি, আশ্রয়হীন বহু

স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ হঠাৎ করে আকাশ কালো হয়ে যায়। তার পরেই শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া।

মেহেদি হেদায়েতুল্লা

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১৩
ঝড়ে রাস্তায় ভেঙে পড়েছে গাছ। রবিবার চাকুলিয়ায়।

ঝড়ে রাস্তায় ভেঙে পড়েছে গাছ। রবিবার চাকুলিয়ায়। নিজস্ব চিত্র ।

উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর ও চাকুলিয়া এবং করণদিঘি এলাকায় শনিবার গভীর রাতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কার্যত বিপর্যস্ত জনজীবন। ঝড়ের দাপটে বিস্তীর্ণ ভুট্টা খেত মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, বহু কাঁচা ও আংশিক পাকা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর উপড়ে পড়া গাছপালায় একাধিক গ্রামীণ রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। রাতের অন্ধকারে এই দুর্যোগে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ হঠাৎ করে আকাশ কালো হয়ে যায়। তার পরেই শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া। কিছু বুঝে ওঠার আগেই টিনের চাল উড়ে যায়, গাছ ভেঙে পড়তে থাকে। গোয়ালপোখরের এক কৃষক রসিদ আলম বলেন, “এ বার ভুট্টা ভালই হয়েছিল। আর কয়েক দিনের মধ্যে কাটার কথা ছিল। কিন্তু এক রাতের ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেল। মাঠে এখন শুধু শুয়ে থাকা ফসল। উঠিয়ে নেওয়ার উপায় নেই।” চাকুলিয়ার এক বধূ বলেন, “ঝড়ের সময় ঘরে বাচ্চাদের নিয়ে বসে ছিলাম। হঠাৎ করে চাল উড়ে যায়। বাইরে বেরোতেই দেখি গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ। সারারাত ঠিকমতো ঘুমোতে পারিনি।” ঘরের চাল উড়ে যাওয়ায় বা দেওয়াল ভেঙে পড়ায় অনেকে রাত কাটিয়েছেন প্রতিবেশীর বাড়ি বা খোলা জায়গায়।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিযোগ, নির্বাচন বিধির কারণে প্রশাসনিক সাহায্য পৌঁছতে দেরি হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট মিটে গেলেও এখনও নির্বাচন-বিধি বলবৎ থাকায় প্রশাসনিক সাহায্য তেমন ভাবে পৌঁছয়নি। ফলে প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। পানীয় জল, শুকনো খাবার এবং মাথা গোঁজার ঠাঁই—এই তিনটিই এখন সবচেয়ে বড় চাহিদা বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়েরা। তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে এবং নিয়ম মেনে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।

এ দিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শনে যান করণদিঘির তৃণমূল প্রার্থী ও বিদায়ী বিধায়ক গৌতম পাল। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সহায়তার আশ্বাস দেন। অন্য দিকে, চাকুলিয়া এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন কংগ্রেস প্রার্থী আলি ইমরান রমজ (ভিক্টর)। তিনি বলেন, “মানুষের এই দুর্দশার সময়ে প্রশাসনের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল।” যদিও জেলা প্রশাসনের দাবি, বিভিন্ন এলাকায় দল পাঠিয়ে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার গভীর রাতে প্রবল ঝড় ও বৃষ্টি হয়েছে ইসলামপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকায়। ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে বাড়ির চালে। কোথাও কাঁচা বাড়ির টিন উড়ে গিয়েছে। ক্ষতি হয় কমলাগাঁও সুজালি, গোবিন্দপুর, গাইসাল গুঞ্জরিয়া, গাইসাল ২, পন্ডিত পোতা ২ সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। রবিবার দিনভর মেঘলা করে দফায় দফায় বৃষ্টি হয়। ঝড়ে ক্ষতি হয়েছে ফসলের। আরো কয়েকদিন পরেই ভুট্টার ফলন তোলার সময়। ঝড়ে ভুট্টা গাছ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি চাষিদের। ইসলামপুরের বিডিও পিনাকী দেবনাথ বলেন, ‘‘ঝড়ে বেশ কিছু বাড়ির টিনের চাল উড়েছে বলে খবর মিলেছে। প্রশাসনিক ভাবে সেগুলি দেখা হচ্ছে। ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। কৃষি দফতর বিষয়গুলি তদন্ত করে দেখে রিপোর্ট দেবে।’’ তথ্য সহায়তা: অভিজিৎ পাল

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Goalpokhar

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy