Advertisement
E-Paper

আনাজ বিক্রি সেরে আসর মাতান মাধবী

উত্তরের লোকগানের দুনিয়ায় নিজের জায়গা পাকা করার লড়াইটাও সমান জেদে চালিয়ে যাচ্ছেন ফাঁসিদেওয়ার মাধবী দাস। তাঁর গলায় একের পর এক ভাওয়াইয়া, বাউলের সুরে মুগ্ধ শ্রোতারা।

কিশোর সাহা

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০১৮ ০২:২৬
লড়াকু: মাধবী দাস

লড়াকু: মাধবী দাস

আলো ফুটলেই বেরোতে হয় আনাজের ঝুড়ি নিয়ে। কখনও এ হাট, কখনও ও হাট। সংসারের চাকা সচল রাখতেই পার হয়ে যায় রেওয়াজের সময়। সুর লাভ হয় চর্চায়। বুঝতে পারেন। কিন্তু হাত পা যে বাঁধা। বছর দশেক আগে স্বামীর মৃত্যুর পর দুই মেয়ে আর এক ছেলেকে নিয়ে সেই যে ভেসেছিলেন দরিয়ায়, এখনও সাঁতরে চলেছেন। তবে সুরকে ছাড়েননি।

উত্তরের লোকগানের দুনিয়ায় নিজের জায়গা পাকা করার লড়াইটাও সমান জেদে চালিয়ে যাচ্ছেন ফাঁসিদেওয়ার মাধবী দাস। তাঁর গলায় একের পর এক ভাওয়াইয়া, বাউলের সুরে মুগ্ধ শ্রোতারা।

বাড়ি ছিল অসমের লামডিঙে। সেই কোন ছোটতে মজেছিলেন লোকগানের প্রেমে। তবে তেমনভাবে শেখা হয়নি কখনও। তারপরে বিয়ে করে ফাঁসিদেওয়ায়। স্বামী মূলিবাঁশের বেড়া বানাতেন। দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে কষ্টেসৃষ্টে চলে যেত সংসার। কাজের ফাঁকে গানের চর্চাও শুরু করেন। কিন্তু, আচমকা স্বামীর মৃত্যু হতেই বিপাকে পড়েন মাধবী। কী করবেন, গোড়ায় ভেবেই পাচ্ছিলেন না তা। অনেকেই পরামর্শ দিয়েছিলেন শ্রমিকের কাজ নিতে। কিন্তু কারও পরামর্শ না শুনে কিছু জমানো টাকা দিয়ে আনাজ কিনে বিভিন্ন হাটে বিক্রি শুরু করেন। কিছুদিনের জন্য শিকেয় ওঠে গানবাজনা।

ধীরে ধীরে শক্ত হাতে সংসারের হাল ধরে ফের গানের চর্চা শুরু করেন। ইতিমধ্যে দুই মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে কিরণ কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। মাধবীর নিজের গানের কদরও কম নয়। লেখাপড়া শেখেননি তেমন। মুখে মুখে গান বেঁধে ছেলেকে দিয়ে লিখিয়ে তাতে সুরও দেন তিনি।

কিরণের স্মার্টফোনে নানা লোকগান শুনে মুহূর্তের মধ্যে সুর আয়ত্ব করে নেন। পরে মঞ্চে উঠে সেইসব গান গেয়ে শ্রোতাদের মন জয় করেন। ফাঁসিদেওয়া, লিউসিপুখুরি, রাঙাপানিতে গিয়ে ‘গান-পাগল’ মাধবীর নাম বললে একডাকে সকলে দেখিয়ে দেবেন কোনদিকে যেতে হবে। দিনভর খাটনির পরেও প্রায় সন্ধ্যাতেই কোনও না কোনও গানের আসরে হাজির হয়ে যান মাধবী। এখন একটাই স্বপ্ন তাঁর। ‘‘ছেলে উপার্জন শুরু করলে আনাজ বিক্রি ছেড়ে পুরোপুরি লোকগানের চর্চায় ডুবে যেতে চাই। গানই যে আমার জীবন।’’

দু’দিন পরেই শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ উৎসব শুরু হচ্ছে। সেটাও জানেন মাধবী। তিনি বলেন, ‘‘দিদিমণি (মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) উদ্বোধন করবেন শুনছি। উনি খুব লড়াকু। ওঁকে নিয়েও একটা গান বেঁধেছি। কোনওদিন সুযোগ পেলে শোনানোর ইচ্ছে আছে।’’

Vegetable Seller Singer Folk Songs
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy