Advertisement
E-Paper

কালিম্পঙে হচ্ছে নয়া ক্যাম্পাস

পাহাড়ের প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য, বৈচিত্রে ভরা পরিবেশের কথা মাথায় রেখে সেখানে বিজ্ঞান সাধনার জন্য গবেষণাকেন্দ্র তৈরি করেছিলেন জগদীশচন্দ্র বসু।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০২:০৯

পাহাড়ের প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য, বৈচিত্রে ভরা পরিবেশের কথা মাথায় রেখে সেখানে বিজ্ঞান সাধনার জন্য গবেষণাকেন্দ্র তৈরি করেছিলেন জগদীশচন্দ্র বসু। দার্জিলিঙে লিম্বুগাঁওতে ওই গবেষণা কেন্দ্র মায়াপুরী। পাহাড়ে জীব বৈচিত্র, প্রাকৃতিক সম্পদের কথা মাথায় রেখেই এ বার সেখানে ক‌্যাম্পাস চালু করতে উদ্যোগী উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জলপাইগুড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস চালু পর পাহাড়ে কালিম্পঙে ওই তৃতীয় ক্যাম্পাস গড়তে চান কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে উপাচার্য সোমনাথ ঘোষের ওই প্রস্তাব কর্মসমিতির সভায় আলোচনার পর বিষয়টি রাজ্য সরকারের কাছে লিখিত ভাবে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের একটি সূত্রই জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে রাজ্য সরকারের শিক্ষা দফতরের তরফে ইতিবাচক ইঙ্গিতও মিলেছে। উচ্চ শিক্ষা দফতরের কাছে ওই কেন্দ্রটি তৈরির জন্য জমি চাওয়া হবে।

উপাচার্য বলেন, ‘‘কালিম্পঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্যাম্পাস গড়তে আমরা আগ্রহী। সে ব্যাপারে কর্ম সমিতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের সিদ্ধান্তও রাজ্যপাল তথা আচার্য়ের কাছে পাঠানো হয়েছে।’’

রাজ্য সরকারের কাছে ক্যাম্পাসের জায়গা চাওয়া-সহ ফিনান্স কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়গুলি সরকারিস্তরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অনির্বাণ মিশ্র থাকার সময়ই প্রক্রিয়া শুরু হয়। বর্তমানে তিনি ওই পদে নেই। তিনি জানান, উপাচার্যের তরফে কালিম্পঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ক্যাম্পাস চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। কর্মসমিতিতে আলোচনার পর সেই মতো রাজ্য সরকারকে বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠানো-সহ অন্য প্রক্রিয়া শুরুও হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের একাংশই জানান, জীব বৈচিত্র এবং প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষার সুযোগের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের চাহিদার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ে ওই নতুন ক্যাম্পাস চালু করা গেলে স্থানীয় ভাষা এবং সংস্কৃতি চর্চার সুযোগও তৈরি হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের একাংশ জানান, বর্তমানে প্রাণীবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, বায়ো টেকনোলজির পড়ুয়ারা বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহের জন্য পাহাড়ে যান। কালিম্পঙে ক‌্যাম্পাস তৈরি হলে সে সব বিষয় নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজ সহজ হবে।

বস্তুত, কালিম্পঙে তৃতীয় ক্যাম্পাস হলে সেখানে একটি ‘হার্ব কালেকশন সেন্টার’ও করতে চান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাহাড় বিভিন্ন ভেষজের খনি। এ ছাড়া ‘কসমিক রে’ নিয়ে গবেষণার কাজও করা যেতে পারে বলে কর্তৃপক্ষের একাংশের মত। রসায়নের বিভিন্ন কাজকর্মের ক্ষেত্রেও কালিম্পঙে ওই তৃতীয় ক্যাম্পাস সহায়ক হয়ে উঠবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

বি প্লাস থেকে সম্প্রতি এ গ্রেড পেয়েছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন ক‌্যাম্পাস তৈরির কাজে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুদান পেতে সে ক্ষেত্রে ওই গ্রেড কাজে আসবে বলেই কর্তৃপক্ষের একাংশ মনে করছেন। তা ছাড়া কালিম্পং ইতিমধ্যেই আলাদা জেলা হয়েছে। দু’দিন মুখ্যমন্ত্রী তা সূচনা করে কালিম্পংয়ে উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমস্ত রকম সাহায্যের আশ্বাসও দিয়ে গিয়েছেন। কালিম্পঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস তৈরির বিষয়টি সে কারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ক্যাম্পাস তৈরি হলে সেখানে শিক্ষক, অধ্যাপক নিয়োগের পাশাপাশি কী কী বিষয় পড়ানো হবে, কত জন ছাত্রছাত্রী থাকবেন?

কর্তৃপক্ষ জানান, এসব এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সব নিয়েই সরকারি স্তরে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত করবেন।

North Bengal University Kalimpong
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy