তৃণমূল নেতার ওপর হামলার অভিযোগের পরে বুধবার দিনভর থমথমে থাকল নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) এলাকা। এনজেপি স্টেশন চত্বরে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের অফিস এ দিন ছিল সুনসান। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল তৃণমূল পার্টি অফিসের সামনেও।
মঙ্গলবার ভর সন্ধ্যেয় শিলিগুড়ির হাসমিচক, বিধান মার্কেট এলাকায় এক ঘণ্টার মধ্যে পরপর দু’বার তৃণমূল নেতা প্রসেনজিৎ রায়ের ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ। প্রসেনজিতবাবুর গাড়ি ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় জনাকয়েক যুবকের নামে অভিযোগ দায়ের করলেও, প্রসেনজিতবাবুর অনুগামীরা দলের গোষ্ঠী রাজনীতির দিকেই আঙুল তুলেছেন। সে কারণেই এ দিন এনজেপি এলাকায় তৃণমূলের বিভিন্ন অফিসের সামনে পুলিশ মোতায়েন ছিল।
এনজেপি এলাকার নেতৃত্বের রাশ কার হাতে থাকবে তা নিয়ে টানাপড়েন, সংঘর্ষ চলছেই বলে অভিযোগ। এর জেরেই প্রসেনজিতবাবুর ওপর হামলা হয়েছে বলে দাবি অনুগামীদের। গত মাসেই এনজেপির পার্টি অফিস দখল করাকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ হয়। প্রসেনজিতবাবুর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছিল সে সময়।
অভিযোগের ভিত্তিতে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শিলিগুড়ি থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, ধৃতরা হায়দারপাড়া, হাকিমপাড়া এবং নবগ্রামের বাসিন্দা। প্রাথমিক জেরায় ধৃতেরা দাবি করেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যেয় প্রসেনজিতবাবুর গাড়ি এক যুবককে ধাক্কা মারে। তখন সকলে মিলে গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করে বলে ধৃতদের দাবি। যদিও, প্রসেনজিতবাবুর অনুগামীদের পাল্টা অভিযোগ, গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা মারার বিষয়টি পুরোপুরি ভুয়ো। মিথ্যে কথা রটিয়ে ‘চোর-চোর’ চিৎকার করে পিছু ধাওয়া করেছিল কয়েকজন যুবক। হামলা চালানোই যুবকদের উদ্দেশ্য ছিল। মাস কয়েক আগে এনজেপি এলাকার প্রভাবশালী এক নেতার মৃত্যুর পরে সংগঠনের দখলদারি নিয়ে শুরু হয় দুই পক্ষের লড়াই।
দলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ, কোনও এক গোষ্ঠীর হাতে সংগঠনের রাশ তুলে না দিয়ে দুই পক্ষকেই ইন্ধন দেওয়ায় গোলমাল বেড়েই চলছে বলে অভিযোগ। জেলা নেতৃত্ব দ্রুত কড়া পদক্ষেপ না করলে সংঘর্ষ বেড়েই চলবে বলে দাবি। যদিও এ বিষয়টিকে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়াতে রাজি নন দার্জিলিং জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব। গৌতমবাবু বলেন, ‘‘হামলার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশকে দ্রুত আইন মেনে পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছি। এর সঙ্গে দলের কেউ যুক্ত নন। প্রসেজনিতবাবুও তেমন কোনও অভিযোগ করেননি।’’ লিখিত অভিযোগ না করেলও, এ দিন প্রসেনজিতবাবু বলেন, ‘‘বারবার আমার ওপর হামলা হচ্ছে, মিথ্যে অভিযোগ করা হচ্ছে। দলকে সব জানিয়েছি। এমন চলতে থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাই অসম্ভব হয়ে যাবে।’’
মঙ্গলবার প্রসেনজিতবাবুর ওপর হামলার অভিযোগ উঠলেও, এর আগে একাধিকবার প্রসেনজিতবাবুর বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীদেরই কেউ কেউ। এই পরিস্থিতিতে দল কড়া না হলে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ ও সংঘর্ষ থামবে না বলেই দাবি শাসক দলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশের।
শংসাপত্র। মালদহের গনিখান চৌধুরী ইন্সটিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির পড়ুয়াদের সার্টিফিকেট এবং ডিপ্লোমা কোর্সের শংসাপত্র দিতে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। কারিগরি শিক্ষা দফতরের মাধ্যমে শংসাপত্র দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত জানান অতিরিক্ত জেলাশাসক দেবতোষ মণ্ডল।