নির্দিষ্ট ৯০ দিনে চার্জশিট জমা দিতে পারেনি সিআইডি। তাই সঙ্গীতা কুণ্ডু নিখোঁজ মামলায় জামিন পেলেন পরিমল সরকার-সহ ৪ জন।
সোমবার জলপাইগুড়ির ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট হিমানীল ভট্টাচার্য পরিমল সহ চার জনের জামিন মঞ্জুর করেন৷ গ্রেফতারের পর ৯০ দিন না হওয়ায় ধৃত এক অভিযুক্তের জামিনের আবেদন অবশ্য খারিজ হয়েছে। চার জনের প্রত্যেককে তিন হাজার টাকার আলাদা আলাদা বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত৷ সরকার পক্ষের আইনজীবী প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘জামিন হলেও তদন্তের প্রয়োজন হলে তদন্তকারী সংস্থার কাছে যেতে হবে চার জনকেই৷’’ কিন্তু চার্জশিট কেন জমা পড়ল না? প্রদীপবাবুর জবাব, চার্জশিট দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণ হয়তো এখনও সংগ্রহ করে উঠতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। সম্ভবত তাই চার্জশিট জমা পড়েনি। জলপাইগুড়ির মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফের জামিনের আবেদন করেন পাঁচ অভিযুক্তের আইনজীবীরা৷ অভিযুক্তদের আইনজীবী অত্রি শর্মা, অখিল বিশ্বাস, আকাশদীপ শীলেরা জানান, তাঁদের মক্কেলদের শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে ধরা হয়েছে৷ অত্রিবাবু বলেন, ‘‘বলেছিলাম, ধৃতদের বিরুদ্ধে কোনও তথ্য প্রমাণ তদন্তকারী সংস্থার কাছে নেই৷ সেটাই প্রমাণ হল।’’
গত ১৭ অগস্ট শিলিগুড়ির সেবক রোডের জিম-পার্লার ও ড্যান্স অ্যাকাডেমির কর্মী সঙ্গীতা নিখোঁজ হন৷ ২৬ অগস্ট সংস্থার মালিক পরিমলবাবু থানায় একটি মিসিং ডায়েরি করেন৷ কিন্তু ৫ সেপ্টেম্বর পরিমলবাবুর বিরুদ্ধেই পাল্টা অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন সঙ্গীতার মা অঞ্জলীদেবী৷ ১৫ নভেম্বর গ্রেফতার করা হয় পরিমলবাবুকে৷
তবে সিআইডির উত্তরবঙ্গের এক উচ্চ পদস্থ কর্তা জানান, মহিলা কোথায়, কী অবস্থায় রয়েছেন তা তাঁরা এখনও জানতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘‘মহিলার কোনও খোঁজ ছাড়া অবধি চার্জশিটে কিছুই লেখা যাচ্ছে।’’
এ দিন সন্ধ্যায় আদালত থেকে জামিনের নির্দেশ জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে পৌঁছয়। পরিমলবাবুর স্ত্রী গার্গীদেবী বলেন, ‘‘স্বামী-সহ সকলেই যে নির্দোষ, তা আমি প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম। কিন্তু যা ক্ষতি হওয়ার তো আমাদের হয়ে গিয়েছে।’’ অভিযুক্তদের জামিনের খবরে সঙ্গীতার দাদা শম্ভু কুণ্ডু বলেন, ‘‘আমরাও প্রথম থেকে মামলার সঠিক তদন্ত চাইছি। দ্রুত চার্জশিটের দাবিও জানিয়েছিলাম।’’