উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়াদের দুই গোষ্ঠীর অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত চলাকালীন কলেজ কর্তৃপক্ষ আলাদা করে তদন্ত করবেন কি না, তা নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। তবে কলেজের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কলেজ কাউন্সিলের বৈঠক ছাড়া ওই কমিটির সদস্যদের একাংশ তদন্ত করার ‘পক্ষে নয়’। পড়ুয়াদের দাবি মতোই এ দিন হাসপাতালের সুপারের নেতৃত্বে অধ্যক্ষ ওই তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিলেও, পরে তা নিয়ে ‘রাখঢাক’ শুরু হয়।
পড়ুয়াদের দুই পক্ষের ‘হাতাহাতি’ নিয়ে মেডিক্যালের ফাঁড়িতে ঘটনার দিনই অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সেই কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষ এখনই ওই কমিটিকে ‘সক্রিয়’ করতে চাইছেন না বলে কলেজেরই একটি সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশ কী করে তা দেখেই তাঁরা এগোতে চাইছেন। তাই এ দিন তদন্ত কমিটি গঠন করা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
মেডিক্যালের অধ্যক্ষ ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, ‘‘পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। সে কারণে তারা কী করেন সেটাই এখন আমরা দেখতে চাই। প্রয়োজন মতো কলেজের তরফে তা দেখা হবে।’’ পুলিশের একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, তাদের তরফে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যে পড়ুয়ারা ডিনকে ‘ঘেরাও’ করে আন্দোলনে নেমেছিলেন, তাঁরা দাবি করেছিলেন, অধ্যক্ষ তদন্ত কমিটি গড়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এ দিন তাঁদের তরফেই দেবজিৎ দাস, রণিত সাঁই বলেন, ‘‘কমিটি গঠনের বিষয়টি কলেজের তরফে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। তবে পুলিশের তদন্ত চলছে। কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেটাই আমাদের কাছে মূল বিষয়। আমরা অপেক্ষা করে দেখছি।’’
কলেজের লেকচার থিয়েটারে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির খেলা দেখা ঘিরে ডিন অনুপম নাথ গুপ্ত এক পড়ুয়াকে শো-কজ় করেন। তার প্রতিবাদে ডিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তাঁকে ঘেরাও করেন পড়ুয়াদের একাংশ। পড়ুয়াদের অন্য অংশ ডিনকে ঘেরাও থেকে বার করতে গেলে দুই পক্ষের হাতাহাতি, ডিনের গাড়ির সামনে বসে পড়া, মারপিট হয়। ডিনের ‘বিরুদ্ধে’ আন্দোলনে থাকা ছাত্ররা অভিযোগ তোলেন, তাঁদের তরফে থাকা ছাত্রীদের মারধর করা হয়েছে। তা নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়।
অধ্যক্ষ সেই সময় ছুটিতে ছিলেন। তিনি কাজে ফিরলে তাঁর কাছেও অভিযোগ জানানো হয়। অন্য় পক্ষ সুপারের কাছে ঘটনার পরের দিনই লিখিত অভিযোগ জানান। অধ্যক্ষ ফিরে শো-কজ় করা পড়ুয়াকে নির্দোষ বলে জানিয়ে দেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)