Advertisement
E-Paper

ভালুকায় জমি বিবাদে বৃদ্ধাকে গুলি করে খুন

সত্তরোর্ধ এক বৃদ্ধার গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়েছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের ভালুকা পালপাড়ায়। ভালুকা-রতুয়া রাজ্য সড়কের পাশে জমি দখলে রাখতে রাত পাহারা দেওয়ার জন্য প্লাস্টিকের ছাউনি দেওয়া একটি ঘর থেকে রবিবার সকালে ক্ষুদু মন্ডল (৭২) নামে ওই বৃদ্ধার দেহ পাওয়া যায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ অগস্ট ২০১৫ ০২:২৯
খুনের পর শুরু পুলিশি তদন্ত। ছবি: বাপি মজুমদার।

খুনের পর শুরু পুলিশি তদন্ত। ছবি: বাপি মজুমদার।

সত্তরোর্ধ এক বৃদ্ধার গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়েছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের ভালুকা পালপাড়ায়। ভালুকা-রতুয়া রাজ্য সড়কের পাশে জমি দখলে রাখতে রাত পাহারা দেওয়ার জন্য প্লাস্টিকের ছাউনি দেওয়া একটি ঘর থেকে রবিবার সকালে ক্ষুদু মন্ডল (৭২) নামে ওই বৃদ্ধার দেহ পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, বৃদ্ধার বুকে গুলি করার পর তা তাঁর পিঠ ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়। জমির দখল নিয়ে বৃদ্ধার ছেলের সঙ্গে এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের বিবাদের জেরে ওই খুন বলে প্রাথমিক ভাবে সন্দেহ পুলিশের। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনায় বৃদ্ধার ছেলে মন্টু মণ্ডলও সন্দেহের ঊর্ধ্বে নন। মন্টুবাবু অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ওই জমির মালিকানা কার সেটাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। মন্টুবাবু যাঁদের বিরুদ্ধে তাঁর মা’কে খুনের অভিযোগ করেছেন, তাঁদের মধ্যে তিন জনের দাবি, ওই জমির মালিক প্রকৃতপক্ষে তাঁরাই। তাঁরা তা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থও হয়েছেন। আদালত এই ব্যাপারে স্থগিতাদেশও দিয়েছে।

এই দিন সন্ধ্যায় ওই খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় ১৯ জনের নামে পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছেন মৃতার ছেলে মন্টু মন্ডল। যার মধ্যে তৃণমূল, সিপিএম ও কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরাও রয়েছেন। যদিও প্রত্যেকেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। চাঁচলের এসডিপিও রানা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘যেই খুন করে থাকুক, জমি নিয়ে বিবাদেই বৃদ্ধাকে খুন হতে হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সব কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভালুকা নেতাজিপল্লির বাসিন্দা মন্টুবাবু দীর্ঘ দিন দিল্লিতে ঠিকাদারি করতেন। দিল্লিতে তাঁর বাড়িও রয়েছে। জমি ব্যবসায়ী মন্টুবাবুর ভালুকাতেও ২৫ শতক জমির উপর বাড়ি রয়েছে। পালপাড়া এলাকায় পৃথক একটি ২৫ শতক জমির দখল নিয়ে স্থানীয় তিন বাসিন্দার সঙ্গে বেশ কিছু দিন ধরেই বিবাদ চলছে তাঁর। ওই তিন সিপিএম কর্মী পরিতোষ মন্ডল, সুরেন ঘোষ ও রেণু মন্ডলেরও দাবি যে ওই জমি তাঁদের। জমির দখল নিতে পাহারা দেওয়ার জন্য সামনে বাঁশের মাচা তৈরি করে উপরে ত্রিপল খাটিয়ে কুঁড়ে তৈরি করেন মন্টুবাবু। আর ওই ঘরেই থাকতেন ক্ষুদুদেবী।

পুলিশ জানায়, মন্টুবাবু ওই জমি রতুয়ার এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে অগ্রিম টাকাও নিয়েছিলেন। কিন্তু বিপক্ষের বাধায় জমির দখল দিতে পারছিলেন না। আর তারপরেই এদিনের ঘটনা। সকাল দশটা নাগাদ প্রতিবেশীরা ওই বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দুপুরে ঘটনার তদন্তে যান এসডিপিও।

ওই খুনের ঘটনায় সিপিএম, কংগ্রেস কর্মীদের পাশাপাশি জড়িয়ে গিয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লক তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বিবেক সাহার নামও। যদিও পুলিশ সূত্রেই জানা গিয়েছে, মন্টুবাবু নিজের চোখে অভিযুক্তদের গুলি করতে দেখেন বলে প্রথমে অভিযোগে জানিয়েছিলেন, কিন্তু তাতে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় সেই অভিযোগ মানতে চায়নি পুলিশ। কেননা রাতে বাড়িতেই ছিলেন মন্টুবাবু। রাতে গুলিবিদ্ধ হতে দেখলেও কেন তিনি এত দেরি করে পুলিশে খবর দিলেন, সেই প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি। এরপরে সন্ধ্যায় খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৯ জনের নামে অভিযোগ করা হয়।

মন্টুবাবুর দাবি, ‘‘মাথার ঠিক ছিল না। অন্যের কথায় অভিযোগ লিখতে গিয়ে ভুল হয়েছিল। কিন্তু ওরাই মাকে খুন করেছে বলে আমার সন্দেহ। কেননা ওরা আগে থেকেই ওই জমির দখল নিতে বাধা দিচ্ছিল।’’

তৃণমূল নেতা বিবেক সাহার দাবি, ‘‘আমি জমির কারবারি নই। ওই জমির সঙ্গে আমার কোনও সংস্রবও নেই। আমার নামে কেন অভিযোগ করা হল সেটা মাথায় আসছে না।’’

সিপিএম নেতা পরিতোষ মন্ডল বলেন, ‘‘ওই জমি যে আমাদের, তা নিয়ে আইনের দ্বারস্থ হয়েছি। আমরা ওই বৃদ্ধাকে মারতে যাব কেন।’’

ভালুকা গ্রাম পঞ্চায়েতের স্থানীয় সিপিএম সদস্য স্নেহা সাহা বলেন, ‘‘মা-ছেলের সম্পর্ক কেমন, তা এলাকার সবাই জানেন। ওই বৃদ্ধাকে খুনের পিছনে কার স্বার্থ রয়েছে, তা পুলিশই তদন্ত করে দেখুক।’’ তাঁর দাবি, ‘‘বিপক্ষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিলে মন্টুবাবু সহজেই জমির দখল নিতে পারবেন বলেই এমনটা করেছেন বলে মনে হচ্ছে।’’

জেলা তৃণমূল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘‘যে কোনও ঘটনাতেই তৃণমূলকে জড়িয়ে দেওয়াটাই রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বেশি আর কী বলব।’’

Bhaluka police Chanchal Malda SDPO
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy