সমতলে পঞ্চায়েত ভোটের অশান্তি পাহাড় পর্যন্ত যেতে পারেনি। পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হিংসা ছবি ফুটে উঠলেও শান্তিপূর্ণ ভাবেই ভোট হল দার্জিলিং এবং কালিম্পঙে। বস্তুত, দু’দশক পরে, পাহাড়ের মাটিতে পঞ্চায়েত ভোট হল। শেষ বার পঞ্চায়েতের কাজ, পরিষেবা পাহাড় দেখছিল সুবাস ঘিসিংয়ের আমলে।
শনিবার সকাল থেকেই পাহাড়ে বৃষ্টি চলছে। তবে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ভোটকেন্দ্রের সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায় ভোটারদের। পাহাড়ে দ্বিস্তর ভোট নির্বিঘ্নে মিটেছে বলে জানালেন সমস্ত রাজনৈতিক নেতা। অনিত থাপা, বিমল গুরুংয়েরা নিজেদের দলীয় কার্যালয়ে বসেই ভোট পরিচালনা করেছেন। শনিবার সকালেই গুরুং পাতলেবাসে নিজের ভোটদান করে সিংমারির দলীয় দফতরে চলে যান। সেখানে বসে তিনি ভোটের খবরাখবর নিতে থাকেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘‘এত বছর পর ভোট হচ্ছে। পাহাড়ের জন্য এটা সত্যিই খুব ভাল ব্যাপার। আশা করি, এ বার গ্রামীণ এলাকাতেও উন্নয়ন হবে।’’ তবে দ্বিস্তরীয় ভোটের বদলে সমতলের মতো ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ভোটই চান গুরুং। তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা জিটিএ-তে দায়িত্বে আছেন, তাঁদেরই এটা করা উচিত।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আমার একটাই লক্ষ্য, সেটা হল গোর্খাল্যান্ড। আমি তাই নিয়েই কাজ করে যেতে চাই। নতুন প্রজন্মকে গোর্খাল্যান্ড উপহার দিয়ে যেতে চাই।’’
অন্য দিকে, অনীত থাপা কার্শিয়াঙে ছিলেন সারা দিন। শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটপর্ব মিটে যাওয়ায় পাহাড়ের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘পাহাড়ের মানুষ উৎসবের মেজাজে ভোট দিয়েছে। তাঁদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। এবার গ্রামীণ এলাকাতেও উন্নয়নের জোয়ার আসবে।’’
আরও পড়ুন:
দার্জিলিং যাওয়ার রোহিণীর রাস্তা থেকে ডাউহিলের পাকদণ্ডী, মিরিক সৌরণীর লেক বা কার্শিয়াংয়ের ডাউহিলের বিদ্যুদয়ন কিংবা লাভা-লোলেগাঁও নিকটবর্তী আলগাড়ার জল প্রকল্প, সবই কয়েক দশকের পুরনো পাহাড়ে। কিছু পানীয় জল, বিদ্যুৎ, ছোট রাস্তা, সেতু, কালভার্টের কাজ হলেও অনেকটাই উপেক্ষিত থেকে গিয়েছে পাহাড়ি গ্রাম। সেখানে ছিল নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন। পার্বত্য পরিষদের ক্ষমতা খর্ব হতে পারে, এই আশঙ্কায় পঞ্চায়েত ভোট আর হয়নি পাহাড়ে। একই ধারা বজায় রেখে গিয়েছিলেন (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) ‘জিটিএ’ তৈরির কারিগর, একদা পাহাড়ের ‘মুকুটহীন সম্রাট’ বিমল গুরুংও।