E-Paper

বকেয়া শতাধিক রিপোর্ট, কাঠগড়ায় ফরেনসিক বিভাগ

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজটি শিলিগুড়ি কমিশনারেটের মাটিগাড়া থানার অধীনে। স্থানীয় থানারই ২৪০টি ময়না তদন্ত রিপোর্ট আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ।

সৌমিত্র কুন্ডু

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৩
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ।

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ। ফাইল চিত্র।

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে সময়মতো ময়না তদন্তের রিপোর্ট মিলছে না বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগী থেকে পুলিশের একাংশের অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে পাঁচ-ছয় মাস পার হয়ে গেলেও রিপোর্ট মিলছে না। এতে বিপাকে পড়েছে পুলিশ প্রশাসন থেকে বাসিন্দারা। অভিযোগ, কারও বিমার টাকা আটকে পড়েছে, কোনও মামলার চার্জশিট পুলিশ ঠিকঠাক দিতে না পারছে না। দার্জিলিং জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা মিলিয়ে প্রায় এক হাজার ময়না তদন্তের রিপোর্ট আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ।

পুলিশ সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজটি শিলিগুড়ি কমিশনারেটের মাটিগাড়া থানার অধীনে। স্থানীয় থানারই ২৪০টি ময়না তদন্ত রিপোর্ট আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ। শিলিগুড়ি থানার শতাধিক। বাকি থানাগুলিরও ময়না তদন্তের প্রচুর রিপোর্ট বাকি পড়ে রয়েছে। রিপোর্ট সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেকে দালালের খপ্পরে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রিপোর্ট পড়ে থাকার কথা স্বীকার করেছেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান রাজীব প্রধান। তিনি বলেন, ‘‘১৫০-২০০ রিপোর্ট বাকি পড়ে থাকতে পারে। অন্যান্য জায়গার মতো সেটা স্বাভাবিক নিয়মেই রয়েছে।’’ তিনি জানান,আট জনের জায়গায় চার জন আধিকারিক রয়েছেন। তাতে সময় মতো রিপোর্ট দিতে সমস্যা হচ্ছে। তাঁর সংযোজন, ‘‘রিপোর্ট লেখার লোক পুলিশের কাছে চাওয়া হলেও মেলেনি।’’

পুলিশ সূত্রের খবর, ময়না তদন্তের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাধারণত যে রিপোর্ট মেলার কথা তা কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও মিলছে না। রিপোর্ট পেতে মেডিক্যালের ফরেনসিক বিভাগে চিঠি করলেও, তাঁরা তা গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ পুলিশের একটি মহলের। তবে ফরেনসিক বিভাগ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশ এবং মেডিক্যাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়না তদন্তের রিপোর্ট লেখার কাজে পুলিশের এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার ছিলেন। আর জি কর-কাণ্ডের সময় তাঁকে পুলিশ বাদ দিলেও ওই কর্মীকে ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকেরা ব্যক্তিগত ভাবে পারিশ্রমিক দিয়ে রেখেছেন বলে দাবি। গুরুত্বপূর্ণ নথি দফতরের কর্মী নয় এমন কাউকে দিয়ে কী ভাবে লেখানো হচ্ছে সেই প্রশ্ন উঠেছে। বিভাগীয় প্রধানের দাবি, বিভাগে কর্মীর অভাব। পুলিশের কাছে লোক চেয়ে মেলেনি। যিনি করছেন তাঁর ওই কাজে অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই তাঁকে রাখা হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Forensics

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy