নিজে হাতে ভাল জিনিসটা কিনবেন বলে মঙ্গলবার যেমন মালবাজারের দৈনিক বাজারে বাজার করতে এসেছিলেন মালবাজার থানার ওসি সমর দাস। চড়া দামের আঁচ ছাড়েনি তাকেও। আজ বুধবার নাতির অন্নপ্রাশন রয়েছে, বড় আয়োজন বলে একদিন আগেই বাজার করতে চলে এসেছিলেন মালবাজারের আদর্শ কলোনির বাসিন্দা শংকর চৌধুরী। বাজার ঘুরে তাঁর বাজেট যে পুরো ফেল করছে সেটা প্রথমেই বুঝে গিয়েছিলন তাই বাড়িতে ফোন করে আরও বাড়তি টাকাও পৌছে দিতে বলেন তিনি। মঙ্গলবার সকাল সকাল বাজার গিয়েই দাম শুনে ভিরমি খাবার জোগাড় হয়েছে সব ক্রেতাদেরই। যে লঙ্কার দাম ছিল ৪০ টাকা কেজি তার দাম উঠে গিয়েছে ৮০ টাকায়। বাঁধাকপি ৪০ থেকে সোজা লাফ ৬০ টাকায়। ফুলকপিও ৬০ থেকে ৮০ টাকাতে। একটু বড় আকারের লাউয়ের দাম ছিল ৫০ টাকা। কচু ৩০ টাকা। এ সবের পেছনেই একজনকেই ভিলেন বানিয়েছেন ক্রেতা থেকে দোকানদারেরা সে হল ভাইফোঁটার তিথি। ভাইদের মুখে একটু ভাল খাবার যে আজ তুলে দিতেই হবে তা বাজার বেশ ভালমতোই জেনে ছক কষে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলেই অভিযোগ। ডুয়ার্সের সর্বত্রই এই দামের ছ্যাঁকায় হাত পুড়েছে ক্রেতাদের। তবে বাজারের ফাঁক গলে বেরোবার কোনও উপায় এ দিন ছিল না, ভাইফোঁটা বড় বালাই। অতএব বাজার করতে গিয়ে নাকাল হতে গিয়ে সর্বস্ব খুইয়েও বাজার করতে হয়েছে।
সব্জির পর পালা ছিল মাছের। শীত পড়তেই আর মাছের দেখা মিলতে শুরু করেছে। কিলোখানেক আকারের আর মাছ যেখানে দু’দিন আগেও ৩০০ থেকে ৪০০ টাকাতে বিক্রি হয়েছে এদিন তার দাম উঠে গিয়েছে ৬০০ টাকাতে, চিতল ৭০০ , আর চিংড়ি ৮০০। ৫০০ গ্রাম বা তার একটু বেশি আকারের ইলিশ মিলেছে ওজনের সমান দামে। বাজার যে এই চড়া দামে পৌছে গিয়েছে তা ভাইফোঁটার পরে নামবে না বরং তা ছট পুজো অবধি বহাল থাকবে বলেই বাজার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন। মালবাজারের মাছ ব্যবসায়ী ফুলকুমার শাহ যেমন জানালেন একলপ্তে শিলিগুড়ির মহাজনেরা দাম চড়িয়ে দেওয়াতেই মাছের দাম বেড়ে গিয়েছে। আগে যেমন দশমী , হোলির সময় দাম চড়িয়ে দেওয়া হত এবার তা ভাইফোঁটাতেও হয়ে গেল বলেই মত আরেক সব্জিওয়ালার।