গত ১২ ঘণ্টায় এক সঙ্গে চারটি ছিনতাই এবং দু’টি চুরির ঘটনায় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে শিলিগু়ড়িতে। কোথাও গলার হার ছিনতাই হয়েছে। কোথাও আবার বাড়িতে ঢুকে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। চুরি গিয়েছে একটি মোটরবাইকও। সোমবার একের পর-এক এমন ঘটনায় শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ছিনতাইগুলি একই কায়দায় একই দল করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজার বক্তব্য, ‘‘তদন্ত শুরু হয়েছে। বেশ কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি।’’ যে-যে এলাকায় ছিনতাই হয়েছে সেখানকার যে নজর (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ মিলেছে তাতে ছিনতাইকারীদের চেহারার মিল পাওয়া গিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিভিন্ন থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ জলেশ্বরী বাজার এলাকায় ফুল নিতে বের হয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা প্রতীমা রায়। ওই সময় একটি কমলা রঙের মোটরবাইকে দু’জন যুবক এসে ওই মহিলার কাছে ফুল চায়। ফুল দিতে গেলে এক জন মোটরবাইক থেকে নেমে মহিলাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে গলার হার ছিনতাই করে মোটরবাইকে উঠে পালিয়ে যায়। দু’জনের মধ্যে এক জন হেলমেট পরেছিল এবং অপর জনের টুপি ছিল মাথায়।
একই কায়দায় সকাল সাতটা নাগাদ সুভাষ পল্লিতে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে লোকনাথ মন্দিরের সামনে এক মহিলার গলার হার ছিনতাই করে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতী দল। নজর ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় একই দল ছিনতাই করেছে। এর পর ফের একই কায়দায় শিলিগুড়ির সেন্ট্রাল কলোনি এলাকা এবং আনন্দময়ী কালিবাড়ির কাছে ছিনতাই হয়। যে মোটরবাইক নিয়ে ছিনতাই করা হচ্ছে সেই মোটরবাইকটি নিজের বলে দাবি করে এক যুবক শিলিগুড়ির ভক্তিনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। রবিবার রাতে শিলিগুড়ির চেকপোষ্ট সংলগ্ন একটি শপিং মলের বাইরে থেকে তাঁর মোটরবাইকটি চুরি হয়ে গিয়েছে বলে থানায় লিখিত ভাবে জানিয়েছেন তিনি।
অন্য দিকে, সোমবার দুপুরে শিলিগুড়ি পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলাপাড়া এলাকায় দিন দুপুরে ঘরে ঢুকে আলমারি ভেঙে নগদ লক্ষাধিক টাকা এবং সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা। পাশের বাড়িতে কীর্তনে গিয়েছিলেন বাড়ির মহিলা মালিক। নজর ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে দু’জন দুষ্কৃতী এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। এক জন বাড়ির সামনে পাহারা দিচ্ছিল অপর জন প্রাচীর টপকে ভিতরে ঢোকে। এরপর বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে কিছু একটা নিয়ে যাচ্ছে তারা। যে দলটি এই কাজ করছে, তারা বিহারের হতে পারে বলে তদন্তকারীদেরপ্রাথমিক ধারণা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)